স্টাফ রিপোর্টার ॥
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। পঁচাত্তরের পর ছয় বছর দেশে ফিরতে দেয়া হয়নি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এক বাণীতে বলেছেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান। পরে দীর্ঘ ৬ বছর লন্ডন ও দিল্লিতে চরম প্রতিকূল পরিবেশে নির্বাসিত জীবন কাটে বঙ্গবন্ধু কন্যাদের।
১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এর তিন মাস পর ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সেদিন কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত লাখো জনতার ঢল নামে। স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন জাতির পিতা হত্যার বিচার ও দেশবাসীর সেবায় জীবন উৎসর্গ করতে চান তিনি।
এর পর থেকে দলীয় কাউন্সিলে টানা ৮ বার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে গত ৩৬ বছর শক্ত হাতে দলের হাল ধরে আছেন শেখ হাসিনা। তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পথ কখনো মসৃণ ছিল না। তাকে হত্যার জন্য অন্তত ১৯ বার সশস্ত্র হামলা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে তাকে লক্ষ করে চালানো হয় গ্রেনেড হামলা।
ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দীর্ঘদিন কারাবাসে থেকেও মাথানত করেননি শেখ হাসিনা। ভয়-ভীতি ও ষড়যন্ত্রে অনেক নেতা পথভ্রষ্ট হলেও জেলে থেকে সফল দিক-নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন তিনি।
জাতিসংঘের চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থসহ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ২৭টি আন্তর্জাতিক পদক অর্জন করেছে। তাঁর নেতৃত্বে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। স্বপ্ন দেখছে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবার।
