বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাকখাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশি-বিদেশি শক্তি। সম্প্রতি সরকারকে এমন প্রতিবেদন দিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। যাতে তিনটি বিদেশি সংস্থা এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন ও সুইডেন রাষ্ট্রদূতের কর্মকা-কে সন্দেহজনক উল্লেখ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে চক্রান্তকারীদের ওপর আগে থেকেই নজরদাড়ি আছে।
সাম্প্রতিক বছরে বেশ কয়েক বার শ্রমিক অসন্তোষ দেখেছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। দেখা গেছে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন, কারখানা ভাংচুর, আগুন দেয়া ও শ্রমিক গ্রেফতারের মত ঘটনা।
তবে গত বছরের ডিসেম্বরে নুন্যতম মজুরির দাবিতে আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ চলে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। বন্ধ করে দেয়া হয় শ’খানেক কারখানা।
বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করা হয় শ্রমিক নেতা, সাংবাদিকসহ প্রায় অর্ধশত জন।
আশুলিয়ায় ঐ শ্রমিক অসন্তোষের কারণ ও এর পরবর্তি অবস্থা বিশ্লেষণে বেশ দোড়ঝাঁপ দেখা গেছে প্রশাসনের মধ্যে।
সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন মহলে প্রতিবেদন পাঠায় দেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। সেখানে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সুইডেন ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কিছু কর্মকান্ডের বিষয় তুলে ধরা হয়।
চার পৃষ্ঠার সেই প্রতিবেদনটির শুরুতে বলা হয়, আশুলিয়ার অসন্তোষের পরে পোশাকখাতে বিদেশী এনজিও এবং শ্রমিক সংগঠনের তৎপরতা বেড়ে যায়। জানুয়ারির শেষে ইন্ড্রাসটিয়াল গ্লোবাল ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক অপূর্ব কাইওয়ারের বাংলাদেশে অবস্থান কালীন ধানম-িতে সভা, ঐ মাসেই দ্যা সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি ডিরেক্টর আলেন্দা সুসানের সাথে ইন্ড্রাসটিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলরের কয়েক দফা বৈঠক এবং দ্যা ওয়ার্ল্ড ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কমরেড জর্জ মাব্রিক্সের ফেব্রুয়ারির শুরুতে বাংলাদেশ সফরের কথা উঠে এসেছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এছাড়াও ৮ মার্চ ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতেও সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জোহান ফিসেলের আলোচনা সভার ব্যাপারে তথ্য দেয়া হয়। এরপর দিন আশুলিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটের সাথে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এ্যান্ড ইন্ড্রাসটিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন ইউনিয়নের রুদ্রধার বৈঠকের বিষয়ে তুলে ধলা হয়। বৈঠকে শ্রমিক নেতাদের আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়। জানানো হয় আশুলিয়ায় অসন্তোষ মামলার আসামি ৩৪ শ্রমিক নেতাকে আইনি সহায়তার নামে ১২ লাখ টাকা করে দেয়ার। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারকে চাপে ফেলতে দেশি-বিদেশী চক্র গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে শ্রমিক নেতাদের ঘনঘন বৈঠক উদ্বেগজনক। আইনি সহায়তার নামে আর্থিক সহায়তা আন্দোলনে উৎসাহিত করতে পারে।
প্রতিবেদনের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এমন কোন তৎপরতার কথা উড়িয়ে দেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আখতার বলেন, ‘আমার এরকম কিছু জানা নাই। এরকম কথা কে বলতেছে। আমরা কাজ করতেছি শ্রমিকরা কিভাবে তাদের মজুরি নিয়ে কাজ কথা বলতে পারে’।
যদিও বিজিএমইএ এর হুশিয়ারি এখনই এসব চক্রান্ত কঠোরভাবে দমন করতে না পারলে ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে দেশের প্রধান এই শিল্পখাতকে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি পোশাক শিল্প ধ্বংস করতে স্বক্রীয় চক্রগুলোকে আগে থেকেই নজরদারিতে রেখেছে প্রশাসন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘অনেক দেশেই শ্রমিক সংগঠনই নাই তারাও এসে আমাদের কাজে হস্তক্ষেপ করছে। এরকম ঘটনা রয়েছে। আমি কারো নাম উল্লেখ করছি না। সরকার এসব ব্যাপারে খুবই সজাগ রয়েছে। এধরনের বাঁধা-বিপত্তির উৎস আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি। এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি’।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা বিষয় নিয়ে ঢাকার সুইডিশ ও মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ করে করা হলে, সুইডিশ রাষ্ট্রদূত দেশের বাইরে থেকে ফিরে আসলে বক্তব্য জানাবেন বলে জানা যায়। কিন্তু মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
চ্যানেল টোয়েন্টিফোর
