Skip to content

মুসলিম বলেই জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে এত আক্রোশ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ফেসবুকে তার ফলোয়ার এক কোটি ৬০ লাখ, টুইটারে দেড় লাখ। সারা বিশ্বব্যাপী ইসলাম নিয়ে তিনি চার হাজারের বেশি লেকচার দিয়েছেন। তিনি হলেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা জাকির নায়েক।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ ইসলামী বক্তাকে গ্রেফতার করতে চায় দিল্লি। এরই মধ্যে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানি জারি করা হয়েছে। অনেকের মতে তিনি মুসলিম বলেই ভারত এ কাজটি করতে চায়।

গত বছর বাংলাদেশে একটি রেস্টুরেন্টে হামলার পর থেকেই জাকির নায়েকের সমস্যার শুরু। বাংলাদেশের দাবি, ওই হামলায় অংশ নেওয়া এক হামলাকারী জাকির নায়েকের কথায় প্রভাবিত হয়েছিল। এ হামলার পর দুবাই থেকে সম্প্রচার হওয়ার ‘পিস টিভি’ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ সরকার। এ চ্যানেলে তার ভাষণ প্রচার করা হতো।

অভিযোগ রয়েছে, কথার মধ্য দিয়ে জাকির নায়েক সহিংসতায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতো। যদিও ৫১ বছর বয়সী এ ইসলামী বক্তা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘নির্দোষ মানুষেকে হত্যা করা ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী দ্বিতীয় বৃহত্তম পাপ।’

গত নভেম্বরে ভারতীয় জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) জাকির নায়েক ও মুম্বাই ভিত্তিক এনজিও ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে এফআইআর করে। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ আনার হয়। এছাড়া এমন কাজ করছে যা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এরপরই নরেন্দ্র মোদির সরকার জাকির নায়েকের ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এ বিষয়ে জাকির নায়েকের আইনজীবী বলেন, ‘এ নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করবে তারা। কারণ এ নিষেধাজ্ঞা শুধু বেআইনি নয়, এটা অন্যায় ও অন্যায্য।’

গত জুলাইয়ের পর আর ভারত ফিরতে পারেননি জাকির নায়েক। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন এটাও জানে না কেউ। তবে সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে স্কাইপের মাধ্যমে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। শোনা যাচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে নাগরিকত্ব দিয়েছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

গত সেপ্টেম্বরে এক খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, ‘এটা শুধু তার উপর নয়, এটা ভারতীয় মুসলিমদের ওপর আক্রমণ। এটা শান্তি, গণতন্ত্র ও বিচারের ওপর হামলা।’

এ বিষয়ে ‘টুসার্কেলস ডট নেট’ ওয়েবসাইটের বার্তা সম্পাদক কাশিফ-ইল-হুদা বলেন, ‘তিনি ভারত সরকারের টার্গেটে পড়েছেন। কারণ তিনি মুসলিম। তার কিছু ভাষণ এবং বলার ভঙ্গিতে ঝামেলা আছে। তাই বলে সহিংসতা উসকে দেয় এমন কোনো কথা তিনি বলেননি। এ ধরনের একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ভিন্ন কোনো অর্থ আছে। এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে ধর্ম।’ সূত্র : আল-জাজিরা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫