বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
২০১৫ সালের অক্টোবর এবং এবছরের মার্চে নতুন জেএমবি সদস্যরা একই ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে। কিন্তু গত ৭ মার্চের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে অভিযান আরো তীব্র হয়েছে। গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে গত বছর জঙ্গি আক্রমণের পর সন্ত্রাসী কর্মকা- যাতে তীব্র না হয়ে উঠতে পারে সে জন্যে আইনশৃঙ্খল বাহিনী কঠোর নজর রাখছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সন্ত্রাসী ঘটনা এটি। কিন্তু একটি বিষয় তখন থেকে পরিস্কার হয়ে দাঁড়িয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যখনই জঙ্গি আস্তানার খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে তখননি প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হচ্ছে। সাভারে সর্বশেষ জঙ্গি আস্তানায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালানোর পর প্রচুর বিস্ফোরক, বোমা ও আত্মঘাতী জ্যাকেট উদ্ধার করে।
এধরনের অভিযানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কিভাবে সন্ত্রাসী বা জঙ্গিরা এধরনের বিস্ফোরক, বোমা, সরঞ্জাম, সুইসাইড ভেস্ট হাতে পাচ্ছে। কাউন্টার টেরিরিজম কর্মকর্তারা দাবি করছেন, বেশির ভাগ বিস্ফোরক, বোম, গ্রেনেড, ডেটোনেটরস ও বিস্ফোরক জেল আসছে ভারত থেকে। নতুন জেমবি’র নেতা মিজানুর ওরফে বড় মিজান চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে এধরনের বিস্ফোরক, বোমা ও সরঞ্জাম নিয়ে আসতেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্প্রতি মিজান বনানী থেকে গ্রেফতার হন। গত তেসরা নবেম্বও তার সহযোগীদের গ্রেনেড ও সেভেনএইটসেভেন ডেটোনেটোর ও অস্ত্র সহ গ্রেফতার করা হয়। কাউন্টার- টেরিরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার সানোয়ার হোসেন বলেন, তারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক রুট বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব পথে ভারত থেকে জঙ্গিদের কাছে চোরাচালানে বোমা, বিস্ফোরক, অস্ত্র ও সরঞ্জাম আসত। দেশের ভেতর এধরনের কিছু চক্র রয়েছে যারা এধরনের চোরাচালানে অস্ত্র আনছে তা চিহ্নিত করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম একাধিক ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন জেএমবি’র নেতা সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ জঙ্গিদের অস্ত্র সংগ্রহে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জেএমবির পুরাতন নেতারা ভারত থেকে কোন কোন রুট দিয়ে চোরাচালানে অস্ত্র আসে তা ভালভাবেই জানেন। মিজানের মাধ্যমে ভারত থেকে বিস্ফোরক ও অস্ত্র বাংলাদেশে এসে পৌঁছাত বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এমন একটি রুট বন্ধ করে দেওয়ার পর মাহফুজ যশোরের আরেকটি রুটে ভারত থেকে অস্ত্র আনা শুরু করে। জঙ্গিরা এসব অস্ত্র ভারত থেকে এনে দেশের অভ্যন্তরে মজুদ করার কৌশল নিয়েছে। মাঝে মাঝে ল্যাবেরেটরিতে ব্যবহার হবে বলে তারা বিস্ফোরক উপাদান সংগ্রহ করে। টাকার জন্যে অসাধু ব্যবসায়ী ও ল্যাবরেটরির কর্মচারিরা বিস্ফোরক সরবরাহ করে থাকে। ৪ ব্যক্তি ও ৩টি কেমিক্যাল দোকানের মালিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিভাগের ১ ল্যাব এ্যাসিসটেন্টকে এধরনের বিস্ফোরক সরবরাহের অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৫ জুন গ্রেফতার করা হয়।
কাউন্টার টেরিরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের এডিসি সানোয়ার বলেন, বিস্ফোরক বিভাগ ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করা হয়েছে যাতে তারা জঙ্গিদের কাছে এধরনের কেমিকেল বিক্রি না করে। ক্রেতা ও বিক্রেতা সম্পর্কে বিশদ তথ্য দেওয়ার বিষয়টি এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাতে ভুয়া পরিচয় দিয়ে কেউ বিস্ফোরক কেনাবেচা করতে না পারে। কেমিক্যাল আমদানির ক্ষেত্রেও বিনাঅনুমতিতে তা করা হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জঙ্গিরা সেই সব কারখানার নাম ব্যবহার করে যেখানো রাসায়নিক ব্যবহৃত হয় এবং তারা তা ক্রয় করে বিস্ফোরকে রুপান্তর করেন।
এদিকে পুলিশের বোম নিস্ক্রীয় ইউনিট বলছে তারা এখন নতুন ধরনের অধিক ধ্বংসাত্মক ধরনের বিস্ফোরক ও ভেস্ট উদ্ধার করছেন। চট্টগ্রামের সীতাকু-, সিলেটের আতিয়া মহল, মৌলভিবাজারের নাসির নগর ও বড়হাট এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক অনেক বেশি মাত্রায় শক্তিশালী।
কাউন্টার টেরিরিজম ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট বলছে, নতুন জেএমবির সকল সক্রিয় সদস্যরা বোম এবং গ্রেনেড তৈরি করতে পারে না, শুধুমাত্র শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা যেমন হাতকাটা মাহফুজ ও হাদিসুর রহমান সাগরের মত নেতা এধরনের বোমা বানানোর কৌশল জানে।
মৌলভিবাজার জঙ্গি অভিযানে গুজব ওঠে জঙ্গিদের মধ্যে এক তরুণ বোমা তৈরিকারী সন্ত্রাসী আফগানিস্তান থেকে ফেরত এসেছে। তবে এধরনের তথ্যের সত্যতা মেলেনি। জঙ্গিদের আস্তানা থেকে বেশ কিছু মুখোশ উদ্ধার প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গি নেতাদের মধ্যে যারা তাদের অনুসারিদের কাছেও পরিচয় প্রকাশে অনিক বা বোমা বানানোর কৌশল জানেন তারা এধরনের মুখোশ ব্যবহার করে থাকেন। ঢাকা ট্রিবিউন থেকে অনুবাদ
