আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীন ইসলামিক রেসিসট্যান্স মুভমেন্ট হামাস উভয় সংকটে পড়েছে। কাতারের সঙ্গে ভূ-মধ্যসাগরীয় কয়েকটি দেশের কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর থেকে সংকটের শুরু। ওই সময় সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের সমর্থন না করতে বলে কাতারকে। এরপর থেকেই হামাসের সমস্যার শুরু। এখন প্রশ্ন হচ্ছে হামাস কি পারবে এ থেকে বের হয়ে আসতে?
২০০৭ সাল থেকে গাজার ক্ষমতায় আছে হামাস। তখন থেকেই তাদের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ক ভালো। হামাসের বেশ কয়েকজন নেতা কাতারের কাছে তাদের উদ্বেগের কথা বলতো এবং সাহায্য চাইতো। কাতারও তাদের সাহায্য করতো। তবে আরব দেশগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে কাতারই অস্বস্তিতে আছে। এর মধ্যে হামাসকে নিয়ে এমন মন্তব্যে সেই অস্বস্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাতার হামাসকে সহায়তা করেছে। তাদের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দোহার সেই প্রচেষ্টাকে নিয়ে হামাসকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। এখন তাদের অস্বস্তি ও পরিচয় নিয়ে সংকটে পড়েছে হামাস।
গত কয়েক বছরে হামাস আরব বিশ্বের বাস্তবতা গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের সম্পর্কে আরব বিশ্বে যে ধারণা এবং আচরণ সেটাও মেনে নিয়েছে। কিন্তু সৌদির এই মন্তব্যের জন্য হামাসের সমস্যা বেড়েই চলেছে। ইসরায়েল এতদিন হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বলতো। তাতে হামাস খুব একটা পাত্তা দিত না। তবে সৌদির এমন মন্তব্যের প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর। ইসরায়েলের বিশ্বে সেভাবে গ্রহণ যোগ্যতা না থাকলেও সৌদির একটা অবস্থান আছে। তাদের মন্তব্যের প্রভাব বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর পড়াটাই স্বাভাবিক।
হামাস দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এই প্রথম অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংকটে পড়েছে। এটা তাদের জন্য বেশ বড় ধরনের ধাক্কা। কিভাবে তারা এই ধাক্কা সামলাবেও সেটাই দেখার বিষয়। এটা সামলাতে পারলে প্রমাণ হয়ে যাবে যে তারা কতদিন টিকতে পারবে। একইসঙ্গে তাদের অবস্থানও পাকাপোক্ত হয়ে যাবে।
গাজা উপত্যকায় চলমান সমস্যার কারণে নিজ এলাকাতেই চাপের মুখে আছে হামাস। ইসরায়েলের কারণে সেখানে ওষুধ ও জ্বালানির সরবরাহ নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬-১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না গাজায়। খাবার সংকট তো আছেই। এর ওরপর ইসরায়েলের আগ্রাসী পদক্ষেপ। কারণ এ এলাকার ক্ষমতায় থাকার পরও তারা লোকজনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। এছাড়া ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও হামাসের মধ্যে তো একটা দ্বন্দ্ব আছেই। এতে করে আভ্যন্তরীণ সংকটে দলটি।
এরই মধ্যে গত মাসে সৌদি সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলেছিল। এরপর সৌদি আরবও তাদের একই তকমা লাগিয়ে দিল। এখন এই তকমা ছেড়ে হামাস কিভাবে বের হবে সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র: আল-জাজিরা।
