বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
অতি বর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজারে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাঙামাটিতেই ৪ সেনা সদস্যসহ ১০৭ জন ও বাকি চার জেলায় ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মহিলা ও শিশু রয়েছে।
নিহত সেনা সদস্যরা মানিকছড়ি ক্যাম্পের সদস্য বলে জানা গেছে।
টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগের তিন জেলায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরু করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুইদিনের টানা বর্ষণে রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে এবং গাছ চাপায় ১৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন সেনা সদস্যও রয়েছেন।
গত সোমবার (১২ জুন) রাত মঙ্গলবার (১৩ জুন) ভোর পর্যন্ত পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার ভোর বুধবার বিকেল পর্যন্ত ১৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সেনা বাহিনীর সদস্যরা। বুধবার সকাল ১০টায় দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার কাজ চলছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকের মরদেহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নারী ও শিশুসহ রাঙামাটিতে ১০৩, বান্দরবানে ছয়, কক্সবাজারে দুইজন, খাগড়াছড়িতে একজন এবং চট্টগ্রামে ৩৪ জন। এছাড়া আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
রাঙামাটির পুলিশ ও ঢাকায় আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানিয়েছে, ১০৩ জন নিহতের মধ্যে সেনাবাহিনীর চার জন সদস্য রয়েছে। তারা মানিকছড়ি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর দু’জন অফিসার রয়েছে। এখনো কয়েকজন সেনা সদস্য নিখোঁজ আছে বলে তারা জানিয়েছেন। তবে সেনা সদস্য নিহত হবার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানায়নি আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর। অন্যদিকে পাহাড় ধসে বান্দরবানে ছয় জন এবং চট্টগ্রামে মোট ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান চলছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সেখানে মঙ্গলবারও প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পায়ে হেঁটে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সস্পর্কে পরিষ্কার চিত্র পেতে আরো সময় লাগবে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্চিত কুমার বলেন, প্রবল বর্ষণে ভূমি ধসের সাথে গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। জেলার অধিকাংশ জায়গায় কোন বিদ্যুৎ নেই। উদ্ধারকাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার এবং সোমবার টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অনেক বাড়ি মাটি চাপা পড়েছে।
