বাংলাভুমি ডেস্ক ॥
চলতি বছরই দেয়া হবে গুলশানের হলি আর্টিজান মামলার তদন্ত প্রতিবেদন। এরই মধ্যে হামলা পরিকল্পনার পুরো ছক উদঘাটন হয়েছে। আরও কিছু তথ্য পেতে পলাতক পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এমনটাই জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গত বছরের এপ্রিলে হামলার জন্য বাছাই করা হয় ঢাকার তিন জঙ্গিকে। পরে আরো দুই জঙ্গিকে নিয়ে পাঁচ জনের দল চূড়ান্ত করা হয়। মিরপুরের রূপনগরে নিহত জঙ্গি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় গাইবান্ধার একটি চরে। হামলার টার্গেট ঠিক করা হয় হলি আর্টিজান বেকারি।
তদন্তে জানা গেছে, অস্ত্র ও বিস্ফোরক কেনাসহ হলি আর্টিজান হামলায় ব্যয় হয়েছে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা। বেশিরভাগ টাকাই দিয়েছেন আজিমপুরে অভিযানে নিহত জঙ্গি তানভীর কাদরী। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরক চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও যশোর সীমান্ত দিয়ে এনেছিল জঙ্গিরা।
তদন্তের তথ্য ঘটনাস্থলে নিহত পাঁচ জঙ্গি ছাড়াও পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত আট জঙ্গি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে। গ্রেপ্তার চার জনের মধ্যে তিন জন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। এখনো পলাতক পাঁচ জঙ্গি। এর মধ্যে সোহেল মাহফুজ ও বাসারুজ্জামান হামলার পরিকল্পনাকারী।
এর আগে গত বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছিলেন, খুব শিগগির গুলশানের অভিজাত হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার নির্ভুল অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। কোনো ত্রুটি ছাড়া অভিযোগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং খুব শিগগির সেটা দিতে পারব।
উল্লেখ্য, গত বছরের পহেলা জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে দেশি-বিদেশী নাগরিকদের জিম্মি করে হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা।
