Skip to content

এমপিরা সরব হবেন সংসদে চলছে প্রস্তুতি

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অপসারণক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে পুনর্বহালসংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত বহাল রাখায় বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যরা। বাহাত্তরের সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদ সংবিধানে পুনর্বহাল করাটা কিভাবে সংবিধান পরিপন্থী হয়—সে প্রশ্ন তাঁদের অনেকের। তাঁরা এ বিষয়ে সংসদের চলতি অধিবেশনেই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন। আগামী রবিবার এই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এই ইস্যুতে সাধারণ আলোচনাও হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যরা চাইলে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ইস্যুতে সংসদে আলোচনা করতে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা চাইলে গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো ইস্যু নিয়ে সংসদে কথা বলতে পারেন। সরকার বা বিরোধীদলীয় সদস্যদের যে কেউ আলোচনার প্রস্তাব তুলতে পারেন। তবে আলোচনায় আদালতের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। তিনি আরো বলেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো পাওয়া যায়নি। সেটা পাওয়ার পর সেখানে আদালত কী অবজারভেশন দেন, সেটা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ছিল।

১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ওই ক্ষমতা দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতির হাতে। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ওই ক্ষমতা দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগের এক রায়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করা হলেও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থা রেখে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অপসারণক্ষমতা আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয় সংসদের কাছে। ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ৯ আইনজীবী। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল গত সোমবার খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করার পর ওই দিনই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ওই সংশোধনী অসাংবিধানিক হয় কিভাবে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সব সময় প্রশ্ন থাকবে যে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারক অপসারণের যে বিধান ছিল, সেটা সামরিক সরকার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে আনে। সামরিক সরকারের ওই সংশোধনী বাতিল করে সংসদ আবার সংবিধানে পুনঃস্থাপন করে। সেটা কিভাবে সংবিধানের পরিপন্থী হয়—তা আমি বুঝতে পারছি না। ’

আপিল বিভাগের ওই রায় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে সরকারদলীয় অনেক সংসদ সদস্যও আইনমন্ত্রীর মতো একই প্রশ্ন তুলেছেন। বিরোধী দলেরও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। তাঁরা এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত সোমবার মন্ত্রিসভায় অনির্ধারিত আলোচনায় প্রসঙ্গটি উত্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সংসদে কথা বলার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। সূত্র মতে, মন্ত্রিসভা বৈঠকে মন্ত্রীরা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করলে একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে প্রতিক্রিয়া জানানোর পরামর্শ দিয়ে তাঁদের প্রস্তুতি নিয়ে যেতে বলেন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, আদালতের রায় শিরোধার্য। তবে এখনো আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে সরকারপক্ষের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। আর জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, ‘সংবিধান প্রশ্নে অবশ্যই সংসদে আলোচনা হতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের সঙ্গে আলোচনা করব। তারপর সংসদে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। ’

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ইস্যু নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হওয়া দরকার। কারণ বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে সংসদে সাধারণ আলোচনার প্রস্তাবও আনা হতে পারে বলে তিনি জানান।

দশম সংসদের চলতি অধিবেশন গত ৩০ মে শুরু হয়। ২৯ জুন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়ার পর মুলতবি করা হয় অধিবেশন। আগামী রবিবার বিকেল ৫টায় আবার অধিবেশন বসবে। ওই দিন সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন এবং আলোচনা করা হবে বলে একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন। কালের কণ্ঠ

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫