আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
কাতার সংকট সমাধানে আল জাজিরা টেলিভিশন বন্ধ, তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি তুলে দেয়া ও ইরানের সাথে সম্পর্ক হ্রাস করা সহ সৌদি আরবের ১৩ শর্ত মানার সময়সীমা প্রথম দফায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার ৪৮ ঘন্টাও শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের শর্ত মেনে না নেওয়ায় কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরব। সৌদির তরফ থেকে বলা হয়েছে, কাতারকে সাহায্য করতেই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে কাতারকে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া এই অঞ্চলের দেশগুলোর আর কিছু করার নেই।
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রাহমান আল থানি বিবিসি’কে বলেছেন, কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব যে অভিযোগগুলো তুলেছে সে বিষয়ে সমাধানে প্রয়োজন একটি সঠিক কাঠামো। তিনি বলেন, ‘একটি সঠিক কাঠামো প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কাতার একটি উপযোগী আলোচনায় আগ্রহী। যা একটা টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান এনে দেবে’।
এদিকে শর্ত মেনে না নেয়ায় নিন্দাও জানিয়েছে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর। মিসরের রাজধানী কায়রোতে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তাদের দাবিগুলোর তালিকার প্রতি কাতারের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
দেশগুলো বলছে, তাদের শর্তের ব্যাপারে কাতারের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় আরব দেশগুলো হতাশ। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আদেল বিন আহমেদ আল জুবায়ের বলেছেন, কাতারকে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া এই অঞ্চলের দেশগুলোর আর করার কিছুই নেই।তিনি বলেন, ‘কাতার সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ডের প্রতি দৃষ্টিপাত করছে না। আমরা যেটা করছি সেটা কাতারকে আঘাত করার জন্য নয় বরং দেশটিকে সাহায্য করায় আমাদের উদ্দেশ্য।’
কাতারকে একঘরে করা দেশগুলোর কূটনীতিকরা বলছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতির তাৎপর্য অনুধাবনে কাতার ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ১৩ দফা শর্ত পূরণ করে নয় বরং সংলাপের মাধ্যমে সংকটের নিরসন করতে চাইছে কাতার। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, শর্তগুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই।
