Skip to content

আনিসুল হক আপনাকে অভিবাদন!

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু একবার পাগলা গারদ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি গরাদের ভেতরে এক পাগলকে ডেকে বলেছিলেন, জান আমি কে? আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পাগলটি হেসে উত্তর দিয়েছিল, এখানে এলে সবাই প্রথমে এমনই বলে।

ঢাকার দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকনের অবস্থা পণ্ডিত নেহেরুর দশার মত। ওনাদের পূর্বসূরী জনপ্রিয় মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকা কিন্তু মেট্রোপলিটন গর্ভনমেন্ট চেয়ে নিজ রাজনৈতিক দলের কাছে কোনো পাত্তা পাননি। নির্বাচনী ইশতেহারে ঢাকার দুই মেয়র যে প্রত্যাশা দিয়েছিলেন তা উবে গেছে। ঢাকার বাইরের মেয়রগুলোর অবস্থাও তাই। কোনো কোনো মেয়রতো অফিসে বসার জন্যে আদালতের হুকুম আনতে বছর পার করে দিয়েছেন।

তারপরও মেয়র আনিসুল হক তার বক্তব্যের জন্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেক শীর্ষ রাজনীতিবিদ তা করেন না। মেয়রদের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ওয়ার্ড কমিশনার থেকে শুরু করে গণমান্য এলাকাবাসি। শক্তিশালী ও কার্যকর নাগরিক কমিটি গঠন করে তারা নগরবাসির বিভিন্ন ধরনের সংকট সমাধানে ভাল ফল পেতে পারেন। একজন শিক্ষিত নাগরিক যখন বেনসনের খালি প্যাকেট, পানির বোতল যত্রতত্র ফেলেন তাহলে আরেক শিশু চিপসের প্যাকেট ফেললে দোষ কি?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মেয়রকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু মেয়রকে নেতৃত্বে পেলে এই সমালোচকরাই রাস্তায় নেমে আসবেন তার শহরের সংকট নিরসনে। মসজিদের ইমামরাও খুৎবায় বলবেন, ড্রেনে ময়লা না ফেলার কথা। কারণ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। বাংলাদেশের সকল মেয়রের কাছে জোরহাত করে একটি দাবি জানাই, তারা অন্তত চিপস কোম্পানিগুলোকে অনুরোধ জানান, প্যাকেটের গায়ে তারা যেন লেখে দেন, প্যাকেটটি যত্রতত্র ফেলবেন না। এতে কতটা কাজ হবে সে বিতর্কে না গিয়ে কারা রাস্তার পাশে ঝুলিয়ে রাখা ডাস্টবিন খুলে নিয়ে গেল সে চিন্তাও নাগরিক হিসেবে করার দাবি জানাই। আইন অমান্য করে এখনো প্রকাশ্যে যারা ধূমপান করছেন তাদের মুরদাবাদ জানাই।

নিজের দায়িত্ব এলে আমরা তা অন্যের ঘাড়ে চাপাতে পছন্দ করি। অন্যের দোষারোপ করা সহজ। কিন্তু মিলিত সংগ্রামে, ঐক্যবদ্ধ চিন্তার স্রোতে পরিস্থিতির পরিবর্তনের শুরুর মধ্যে যে কি ভয়ানক মজা তা উপলব্ধি করাও জরুরি। সিঙ্গাপুরে রাস্তায় ময়লা ফেললে ৫ হাজার টাকা জরিমানা হয়, এ বিধান মেনে চলার পরও ঢাকায় ফিরে আমরা যে লাউ সে কদু হয়ে যাই। কেন হই এবং তার ওষুধ কি এসব নিয়ে মেয়ররা চিন্তা করে তাদের ভোটারদের সংস্পৃক্ত করার কলা কৌশল যতক্ষণ না রপ্ত করতে পারবেন ততক্ষণ পাগলা গারদের সেই পাগলের মত মুখ টিপে হাসতে হবে।

যে কোনো মেয়র সদিচ্ছা নিয়েই নগরবাসীর সেবার জন্যে আসেন। কিন্তু তার আগে তার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে প্রশাসন, তিনি যে সব সংস্থাগুলোকে নিয়ে কাজ করবেন তাদের মধ্যেকার সম্বন্বয়ের অভাব, দুর্নীতি সহ অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো কিভাবে মোকাবেলা করবেন তা নিয়ে ভাবলেও কোনো কলাকৌশল অবলম্বন করেন না। ফলে মেয়র নির্বাচিত হবার পর ইশতেহারে দেওয়া তার প্রত্যাশা কর্পুরের মত উবে যায় কেবল। তার অবস্থা হয় হাত পা বেঁধে দিয়ে কোনো সাঁতারুকে ফার্স্ট হতে বলার মত অবস্থায়।

সম্মানিত মেয়ররা উন্নত দেশ না হোক এক্ষেত্রে ভারত, শ্রীলংকাসহ আশেপাশের দেশগুলোর অভিজ্ঞতা যাচাই বাছাই করতে পারেন। ইন্টারনেটের এ যুগে দেশভ্রমণ ছাড়াই তা করবেন। নগরবাসীরা তাদের সংকটের সমাধান চান। মেয়রও তাই চান। তাহলে কাবাবমে হাড্ডি হয়ে কারা থাকছে এবং এসব হাড্ডি অপসারণে মুন্সীয়ানা মেয়রদের দেখাতেই হবে। যানজট নিরসনে তারা যেমন ফ্লাইওভারের নকশা পরখ করবেন তেমনি গণপরিবহন ব্যবস্থারও গোড়াপত্তন করবেন।

স্কুলের ছেলেমেয়েরাও জানে যেখানে সেখানে কোনো কিছু ফেলা যাবে না। মোবাইল টয়লেট দেখেও একটু ফাঁকে দাড়িয়ে হিসু কিন্তু প্রাপ্ত বয়স্করাই করে। ফুল তোলা নিষেধ বাগানে এমন সতর্কবাণী দেখে কেউ যদি গাছই তুলে নিয়ে যান তাহলে মেয়রদের ভাবা উচিত তাদের ভোটারদের রকমফের সম্পর্কে। এরপর তাদের নগর উন্নয়নে মহাপরিকল্পনায় হাত দেওয়া উচিত। যদি মেয়ররা তা করতে পারেন তাহলে তাদের আগাম অভিবাদন দিয়ে রাখছি। আর নগরবাসী হিসেবে সবাইকে এটুকু বলতে পারি আমরা না চাইলে শহর এত অপরিস্কার অপিরচ্ছন্ন থাকে কিভাবে? আমাদের সময়.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫