বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
দিন দিন প্রকোট হচ্ছে রাজধানীর গণপরিবহন সংকট। নিবন্ধিত ২৯ হাজার বাসের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র সাড়ে চার হাজার। ফলে ৯০ ভাগ মানুষ যাত্রী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গন্তব্যে যাবার উপায়। পাশাপাশি যানজটের কারণে সচল বাসের ট্রিপ কমে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে সড়ক পরিবহন সমিতি।
জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর ঢাকা। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৫ হাজার মানুষ বাস করে। এছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে প্রতিদিন শহরমুখী হচ্ছেন প্রায় চার লাখ মানুষ।
বেসরকারি গবেষণা অনুযায়ী, নগরীতে কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিন রাজপথে নামেন কমপক্ষে এককোটি মানুষ।তারা কী যাত্রী সেবা পান?
রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টের অবস্থা একইরকম। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা। যদিও বাস আসে তাও আবার সিট খালি নেই। এছাড়া সিটিং সার্ভিসের বিড়ম্বনাতো আছেই। সবচেয়ে চাঁপে পড়তে হয় স্কুল-কলেজ-কল কারখানামুখী নারীদের। একজন নারী ঠিক জানেনই না যে তিনি অপেক্ষা করার ঠিক কতক্ষণ পরে বাসে উঠতে পারবেন। আর কত নম্বর বাসটি তার জন্য উপযোগী হয়ে আসছে!
রাজধানীর প্রতিটি স্টেশনের চিত্রই এমন। বাস মালিক সমিতি বলছে, চাহিদার ৮ ভাগ গণপরিবহনও নেই। আর যেসব বাস যাত্রী বহন করে তার সিংহভাগেরই ফিটনেস নেই। যানজটের কারণে নির্ধারিত ট্রিপও দিতে পারে না সচল সাড়ে চার হাজার বাস। ফলে যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘণ্টা।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিএ বলছে, গত বছর রাজধানীর সড়কে নেমেছে এক লাখের বেশি যানবাহন, এর মধ্যে যাত্রী পরিবহনের বাস মাত্র তিন ভাগ।
পরিকল্পিত একটি শহরে যানবাহনের জন্য ২৫ ভাগ সড়ক থাকার কথা থাকলেও, ঢাকায় আছে মাত্র ৫ ভাগ। আর সেই ৫ ভাগ সড়কের ৯০ ভাগই ব্যাক্তিগত গাড়ি মালিকদের দখলে। তাই পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা যাত্রী বান্ধব নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের আলাদা লেইন চালু করে, বাকি অংশ গণপরিবহনের জন্য ছেড়ে দেয়া হলে বাড়বে বাসের ট্রিপের সংখ্যা যাতায়াতে সময়ও কম লাগবে। অন্যদিকে ব্যক্তিগত গাড়ির লেইনে চাপ বাড়ায় মর্যাদা পাবে গণপরিবহন। ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি
