Skip to content

গাজীপুরে অশ্লীল নৃত্য ও হাউজির প্যান্ডেল ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ > ভ্রাম্যমান আদালত ৩৫ জনকে কারাদন্ড প্রদান

মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার ॥
গাজীপুরে সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকায় তিন বছরের অধিক সময় ধরে বিরতি দিয়ে চলছে অশ্লীল নারী নৃত্য ও হাউজি। গাজীপুরের সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর দাবির মূলে গাজীপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক ডক্টর দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীরের নির্দেশে সেই অশ্লীল নৃত্য ও হাউজির আসরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৩৫ জন নারী ও পুরুষকে আটক করে এবং প্যান্ডেল ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করেন।
গত বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) রাত ১০টায় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোঃ রাহেনুল ইসলামের নেতৃত্বে দুই জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যথাক্রমে বিএম কুদরত- এ খুদা ও মোঃ রাসেল মিয়া, ৭০/৮০জন র‌্যাব সদস্য ও পাঁচ আসনার সদস্য নিয়ে এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ওই হাউজি জুয়া ও অশ্লীল নারী নৃত্যের আস্তানায়। এ সময় মালিক পক্ষের আতাউর রহমানসহ ২১ জন পুরুষ জুয়ারী এবং অশ্লীল নারী নৃত্যের ১৪জন তরুণীকে আটক করে।


এ ভ্রাম্যমান আদালত রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পরিচালনা করে ২১ জন পুরুষ প্রত্যেককে জুয়া আইনে এক মাসের কারাদন্ডে নির্দেশ প্রদান করেন। অপরদিকে ১৪ তরুণীকে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৯৪ ধারায় প্রত্যেককে এক মাসের কারাদন্ডের নির্দেশ প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক ডক্টর দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর গাজীপুরে যোগদানের পর প্রথম কর্মদিবসে গাজীপুরের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গাজীপুরের যানজট, অবৈধ আবাসিক হোটেল ব্যবসা, হাউজি-জুয়া ও অশ্লীল নারী নৃত্যের বিষয়ে অবহিত করেন এবং এগুলো বন্ধের জন্য আলোচনা করা হয়। ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল, যানজট নিরসনে কাজ করে এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুলাই রাতে হাউজি-জুয়া ও অশ্লীল নারী নৃত্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য ২০১৪ সালে ৯ নভেম্বর সাপ্তাহিক বাংলাভূমি পত্রিকায় ‘গাজীপুরে আট স্থান অশ্লীল নৃত্য মেলা’ শীর্ষক লীড সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পরদিন জেলা আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে এ নিয়ে আলোচনা হয় এবং জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এসব হাউজি ও অশ্লীল নৃত্য মেলা বন্ধের অভিযান পরিচালনা করেন। এসব সংবাদ নিয়ে পরপর পাঁচটি সিরিজ প্রিন্ট পত্রিকার পাশাপাশি পত্রিকার অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ করা হয়েছিল। একটি মেলা একাধিকবার ভাঙ্গার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল মেলার মালিক। অর্থাৎ একদিকে মেলা ভাঙ্গা হলে ২/৪দিনের মধ্যে আবার মেরামত করে পূণরায় চালু করতেন মেলার মালিকগণ। এতে করে কতিপয় নামধারী সাংবাদিক মেলার দালাল, কতিপয় অসাধু পুলিশ, মেলার মালিকগণ একাট্টা হয়ে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এক পর্যায়ে জুলীয়াস চৌধুরী নামে নামধারী এক সাংবাদিক মেলার মালিকগণের পক্ষ নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির ৫৭(২) ধারায় সাপ্তাহিক বাংলাভূমি’র সম্পাদক প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম আজহারসহ পত্রিকার আট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা {নং-৮(১)১৫} দায়ের করেন। পরবর্তীতে উচ্চ ও নিম্ন আদালত থেকে সাংবাদিকরা জামিন পায়। পুলিশী তদন্তে অবশেষে মামলাটি ফাইনাল রিপোর্ট প্রদান করেন। এক পর্যায়ে গত ২০ নভেম্বর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত এ মামলাটি খারিজ করেন।
তবে পূর্বের অভিযান আর বর্তমান অভিযানের মধ্যে পার্থক্য হলো- পূর্বে ভ্রাম্যমান আদালত প্যান্ডেল ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিত। আর এখন প্যান্ডেল গুঁড়িয়ে অগ্নিসংযোগ এবং মালিকপক্ষকে সাজা প্রদান।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫