Skip to content

রাজনীতি নয়, ঢাকা অচল হচ্ছে অপরিকল্পিত উন্নয়নে

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
হরতালকে সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে অনেক আগেই। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে হরতাল প্রত্যাখানের বিষয়টি তারা রীতিমত উপভোগ করেন। কিন্তু অপরিকল্পিত উন্নয়নের ভোগ ঢাকাকে এখন জলযট ও যানজট সহ নানা ধরনের সংকটে অচল করে তুলছে। বিশ্বের কোনো দেশে বাসা বাড়িতে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয় না। পুরো ঢাকা শহর রয়েছে হাজার হাজার গ্যাস পাইপ লাইনের জালের উপরে। এখনো রান্নার জন্যে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগের বিকল্প গ্রহণযোগ্য কোনো জালানির সন্ধান দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায়শ: উন্নয়নের নামে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংযোগ ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধ থাকছে। এ আলামত ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে।

অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে মধ্যরাত বা গভীর রাতের পরও ঢাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার গাবতলী থেকে মিরপুর সড়কে বুধবার দিবাগত রাত তিনটা থেকে যানজটের কথা জানান একাধিক ওই রুটে চলাচলকারী একাধিক চালক। টানা বৃষ্টিপাতের পরও রাস্তায় ধূলা কমছে না। রাস্তার পরত ফিবছর উঁচু হচ্ছে। কার্যত ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে গেছে তা টের পেতে রাস্তার দু’পাশে একটু কষ্ট করে তাকালেই হয়। খাল গায়েব হয়েছে বছরের পর বছর। গুলশান লেকের বিস্তৃতি কমেছে একই ভাবে। ঢাকার প্রকৃতির ওপর এধরনের অনাচার চলেছে কয়েক যুগ ধরে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল সরকার পরিবর্তনের পরপরই নতুন নতুন আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করা। এমপি, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবীদের প্লট পাইয়ে দেওয়ার এক পাইওনার ভূমিকা পালন করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানটির হাতে নির্বিচারে ভরাট হয়েছে ঢাকার অনেক জলাশয় যা অনুসরণ করেছে বেসরকারি খাতের আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো।

উন্নয়নবিদ, নগরপরিকল্পনাবিদরা কনসালটেন্সির অমোঘ টানে নানাবিধ স্কেচের আঁচরে ঢাকার প্রকৃতির ওপর এধরনের অনাচারের প্রাতিষ্ঠানিক রুপদান করেছেন। ঢাকা হারিয়েছে জলনিষ্কাশন ক্ষমতা। বৃষ্টিপাতে জল এতটাই সময় ধরে জমে থাকছে যে রাস্তার বিটুমিন তা সহ্য করতে পারছে না। ক্ষয়িষ্ণু এই বিটুমিন, পাথর ভঙ্গুর হয়ে রাস্তাঘাট চন্দ্রপৃষ্ঠে পরিণত হয়েছে। এতে নানা খানাখন্দ গাড়ির গতিকে কমিয়ে দিচ্ছে। উপরন্তু লোক বেড়েছে, গাড়ি বেড়েছে যে পরিমাণ সে পরিমাণ বিকল্প রাস্তার কথা উন্নয়ন বরাদ্দে অনুপস্থিত ছিল বরাবরই।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কোনো মেয়র, মন্ত্রী রাস্তায় নামার সাহস পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন। একজন মেয়র নামলেও ওয়াসার ওপর দায় চাপানো ছাড়া তার আর কোনো বক্তব্য ছিল না। কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কমেছে অথচ যানজট বেড়েছে। স্টপেজে স্টপেজে হাজার হাজার মানুষ যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে এ আজব সমীকরণ মেলাতে পারছেন না। বিশ্বব্যাংক যানজটের কারণে ৩২ লাখ কর্মঘন্টা দিনে বিনষ্ট হচ্ছে এমন প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই একই অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বলেছেন, ২০৩৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা হবে সাড়ে ৩ কোটি। রাস্তাঘাট কতটা বাড়বে,জলনিষ্কাশন ক্ষমতা আরো কমবে কি না, অবশিষ্ট গুটিকয়েক খালে আরো নয়নাভিরাম উঁচু ভবনের কার্নিশ শোভা পাবে কি না ইত্যাকার নানা দুঃশ্চিন্তা ভর করেছে ঢাকাবাসির ওপর। এই দুঃশ্চিন্তা যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতির চেয়ে কম গুরুতর নয়। কিন্তু এসব দুঃশ্চিন্তা থেকে ঢাকাবাসিকে মুক্তি দেবেন বা এমন কার্যকর চিন্তাভাবনা করতে পারেন এমন মেয়র এখনো দেখা যাচ্ছে না।

ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত ঢাকার জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এধরনের নগর সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এবং তার সরকারের সময়ে এ সংকট দূর করার জন্যে কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। আগামী বছর বর্ষার পরপরই জাতীয় নির্বাচন। এত স্বল্প সময়ে গত কয়েক যুগের নগর সংকট ও জটিলতা নিরসনের জন্যে যে বড় ধরনের সমন্বয়মূলক বিশাল উদ্যোগের প্রয়োজন তা নিতে দলমত নির্বিশেষ একটি জাতীয় উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। এতে ঢাকাবাসী তাদের নানাবিধ সংকট মোচনের একটা রুপরেখা পেলেও পেয়ে যেতে পারেন। যা এতদিন তারা অপরিকল্পিত উন্নয়নে হারিয়ে বসে আছেন। আমাদের সময়.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫