Skip to content

‘অন্ধকারে’ বিএনপির নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
বিএনপির ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার’ সম্পর্কে ‘অন্ধকারেই’ রয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারক বলে পরিচিত কেন্দ্রীয় নেতারাসহ এ দলের প্রতি সহানুভূতিশীল অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী। সহায়ক সরকারের রূপরেখায় কী থাকছে জানতে চাইলে তাদের অধিকাংশই বলেন, তারা এ সম্পর্কে একেবারেই ‘ওয়াকিবহাল’ নন। সহায়ক সরকার রূপরেখা সম্পর্কে আড়ালে-আবডালে অনেক কিছুই শুনেছেন। এই ‘শোনা কথা’কে ভিত্তি করে এ সম্পর্কে কিছু বলা হবে কেবল ‘অন্ধের হাতি দেখার মতোই’ অবস্থা। এ জন্য নিশ্চিত করে বলা দেয়া যাচ্ছে না, আসলে ওই রূপরেখায় কী থাকছে। তাই তারাও অপেক্ষা করে আছেন কখন এই রূপরেখা প্রস্তাবনা আকারে প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, গেল বছরের নভেম্বর মাসে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া যখন নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন সম্পর্কিত ১৩ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, তখন সেখানে বলেছিলেন যে, নির্বাচনকালে ইসিকে সহায়তা করতে একটি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা অচিরেই উত্থাপন করবেন তারা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দলের নেতারা বলে আসছেন, ‘রূপরেখা আসছে’। গত রমজানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বলেছেন যে, সহায়ক সরকারের রূপরেখা উত্থাপন করা হবে। বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। লন্ডন থেকে ফিরেই এই রূপরেখা উত্থাপন করার কথা রয়েছে তার। কিন্তু রূপরেখায় কী কী বিষয় থাকতে পারে, সে সম্পর্কে দেশবাসীর মধ্যে উৎসুক্য রয়েছে। এ কারণে এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের নীতিনির্ধারক বলে পরিচিত নেতারা কিছুই জানাতে পারেন না।

দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করলে বোঝা যায়, এ বিষয়ে পুরো অন্ধকারে থাকায় তাদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ রয়েছে। একই সঙ্গে রূপরেখা প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারেও রয়েছে তাদের ক্ষোভ। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, দলের প্রতি সহানুভূতিশীল আমলা-বুদ্ধিজীবীদের দিয়ে নাকি সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা দলের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তাদের দিয়ে কী করে সহায়ক সরকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়?

বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপিপন্থি পেশাজীবী সংগঠন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক ডা. এম এ মাজেদের স্মরণ সভায় নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকার’ নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা খালি বক্তৃতা দিচ্ছেন, সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না, এটা একটা বাজে বক্তৃতা। দুর্ভাগ্য হলো- বিএনপি আজকে পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং তাদের নিজেদের নেতাদের নিয়ে আলোচনা করছেন না সহায়ক সরকারের রূপরেখা কী হবে। আজকে পর্যন্ত আপনারা তা করলেন না।

ডা. জাফরুল্লাহ বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকার খারাপ পদ্ধতি নয়, ভালো পদ্ধতি। তবে আপনাদের বলতে হবে, যেহেতু সুষ্ঠু নির্বাচন চান, গণতন্ত্র চান, সহায়ক সরকার নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে- এভাবে কথা বলতে হবে।

অনুষ্ঠানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যখন বক্তৃতা রাখছিলেন, তখন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। পরে তিনি তার বক্তৃতায় নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার সম্পর্কে বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের দলের মধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তি আছেন যারা বিষয়টা বোঝেন, তাদের সবার সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। সবার মত নিয়েই সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেয়া হবে। সবার মত নিয়ে দেয়া হবে বলেই আমরা আশা করি, সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নে আমরা সবার সহযোগিতা পাব।’

নাম প্রকাশ করতে চান না এমন বিএনপির এক নেতা জানান, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যা বলেছেন, তাই হলো দলের অনেকের কথা। তিনি ‘দলীয় ডেকোরামে’ নেই বলে অনেক কিছুই বলতে পারেন। কিন্তু আমরা যারা দলের সঙ্গে রয়েছি, তাদেরকে দলের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। তাই চাইলেও অনেক সময় অনেক কথা বলতে পারি না।

তিনি বলেন, লক্ষ্য করে দেখবেন, ওই স্মরণ সভায় নজরুল ইসলাম খানও কিন্তু এ সম্পর্কে বেশি কিছু বলেননি। এমনিভাবে যদি আপনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে তারা ভাসা ভাসা জবাব দেবে। সঠিকভাবে তারা কিছুই বলতে পারবে না। কারণ, তাদের এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয় না। মানবকণ্ঠ

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫