বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানগুলোর যাবতীয় বাণিজ্যিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ডিজিটাল ম্যাপ। যেখানে কারখানার অবস্থান, শ্রমিক সংখ্যা, পোশাকের ধরণসহ নানা তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে বিশ্বের যেকোন আমদানিকারক গুগল থেকে ম্যাপটি সার্চ করে পছন্দ মতো কারখানা বেছে নিতে পারবে।
ডিটিটাল ম্যাপিং তৈরিতে পোশাক কারখানা মালিকদের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ’কে যৌথভাবে সাহায়তা করছে অন্তর্জাতিক ব্যান্ড সি এন্ড এ ফাউন্ডেশান এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।
ডিজিটাল ম্যাপ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিবিসি বাংলার সাথে কথা হয় বিজিএমইএ- এর সভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দুকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সি এন্ড এ ফাউন্ডেশন ও ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় যে ডিজিটাল ম্যাপটি করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তাতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল ম্যাপে সংযোজন করা হবে। সেই ম্যাপিং সিস্টেম থেকে যেকোন দেশের আগ্রহী আমদানিকারক কারখানার অবস্থান, শ্রমিক সংখ্যা, কারখানায় তৈরি পোশাকের ধরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারবেন। সেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আমদানিকার তার পছন্দসই কারখানা বেছে নেয়ার সুযোগ পাবেন।’
কতদিন নাগদ ম্যাপটি সাধারণ মানুষ দেখতে পারবে?
এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল ম্যাপের কাজ মাত্র গত শনিবার শুরু করা হয়েছে। পুরোপুরি প্রস্তুত হতে বেশ কিছু সময় লাগবে। কারণ, কারখানগুলো সম্বন্ধে তথ্য-উপাত্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তবে আশা করছি আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই ম্যাপটি পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাবে।’
রানা প্লাজার দুর্ঘটনা, বয়লার বিস্ফোরণসহ তৈরি পোশাক শিল্পে নানা বিপর্যয়ের ফলে কারখানার অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যেসব দাবি উঠেছে, সেই দাবির মুখেই ডিজিটাল ম্যাপের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো কিনা জানতে চাইলে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘পোশাক কারখানা স্বচ্ছতারে সাথে ডিজিটাল ম্যাপ তৈরির কোন সম্পর্ক নেই। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পোশাক কারখানা সম্বন্ধে বিশ্বের আমদানিকারকদের সুবিধার্থে ও আধুনিকায়নে লক্ষ্যে।’
ডিজিটাল ম্যাপ তৈরিতে কারখানা মালিকরা নিজেদের কারখান সম্বন্ধে যে সঠিক তথ্য দেবেন তা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে?
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালিকের স্বার্থেই মালিক নিজের কারখানা সম্বন্ধে সঠিক তথ্য দেবেন। কেননা, কারখানার তথ্যের সাথে বাস্তব অবস্থার যদি মিল না থাকে তবে আমদানিকারদের বিশ্বস্ততা তৈরি হবে কীভাবে?
