Skip to content

থমকে আছে ব্লগার হত্যার বিচার

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ব্লগার নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় হত্যাকাণ্ডের দুই বছর আজ, নীলয় নীল নামে তিনি লেখালেখি করতেন। ২০১৫ সালের ৭ আগষ্ট দুপুরে বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, নিলাদ্রী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করেনি পুলিশ। প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডেই দেখা গেছে যে, নিহতদের দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর তার পরেই ধর্মীয় মৌলবাদি সংগঠনের নামে দায় স্বীকার করা হয়েছে।

এবছর ব্লগার রাজিব হায়দারের হত্যার রায় দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য মামলাগুলোর অগ্রগতি কতটা?
এই প্রশ্নের উত্তরে আইনজীবি ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, গত তিন বছরে দশজন ব্লগার হত্যা হয়েছে, তার মধ্যে রাজিব হায়দারের ছাড়া বাকি নয়জনেরই জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়নি। কোন কোন মামলায় হয়তো কয়েকজন ব্যাক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মামলারই তদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হয়নি, ফলে মামলা বা বিচার শুরু হয়নি।

তিনি আরো বলেন, ব্লগার অভিজিৎ রায়ে হত্যার তদন্তে এফবিআই এর টিম আসার পর আমাদের মনে আশা জেগেছিলো। কিন্তু অবশেষে যা দেখা গেলো, এই অভিযোগে কারা জড়িত ছিলো বা কিভাবে ঘটনাটা ঘটেছে তার কোন সঠিক দিক নির্দেশনা ছাড়াই তদন্ত শেষ করা হয়েছে।

নিহত ব্লগারদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি তারা দেখছেন না। আসলে সমস্যা কোথায়?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা যে লেখালেখি বা যে কারণেই হত্যা হয়েছে সে বিষয়গুলো একধরনের বাধা হিসেবে কাজ করছে কি না সে বিষয়গুলোও ভেবে দেখার দরকার। যারা তদন্ত করছেন তার কোন মনোভাবের মানুষ। আর একটা বিষয় ভেবে দেখার বিষয়, আমাদের আদৌ কোন দক্ষ লোকজন আছে কিনা। যে প্রক্রিযায় হত্যাগুলো হয়েছে সেগুলোর প্যটার্নগুলো দেখলে বোঝা যায়, এগুলোর মধ্যে একধরনের সাদৃশ্য রয়েছে, শুধুমাত্র পার্থক্য দেখা গেছে ফয়সাল আর রিপনকে হত্যার প্রক্রিয়ায়।

ছোট শহরের একটা কার্যলয়ের ভিতরে ডুকে যখন আহম্মেদ রশিদ, চৌধুরী টুটুল, রনজীবন বসু, তারেক রহিম তাদেরকে যখন কুপিয়ে যখম করার ঘটনা ঘটলো এরমধ্যে একটা পের্টান পরিবর্তন দেখা গেলো। এখন এই পের্টান গুলোকে সঠিক ভাবে তদন্তের কাজে ইনকর্পোরেট করা বা এই তদন্তটাকে সত্যিকার অর্থে ফলপ্রসুভাবে কাজে লাগানোর ব্যাপারে আমাদের ঘাটতি আছে।

কিছু মামলায় বাদি পক্ষে কোন আইনজীবিও নেই সেটা কেন হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, একজন নাগরিক যখন হত্যা হচ্ছেন তিনি ব্লগার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক বা অন্য যে কোন পেশার মানুষই হন সে পরিচয়টা আসলে বড় পরিচয় নয়।

আপনি যদি রাষ্ট্র¦বিজ্ঞানের ভাষায়ও বুঝার চেষ্টা করেন একজন নাগরিককে রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সমস্ত ফৌজদারি মামলাতেই দেখা যায় যে রাষ্ট্র বনাম অপরাধী তার নাম থাকে। মামলা গুলো আমরা এভাবেই চিন্তা করি। ফলে তার পক্ষে যে আলাদাভাবে আইনজীবি থাকতে হবে সেটার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের পরিচালনা করার জন্যে আইনজীবি থাকছেন। এখন সেখানেও আপনি প্রশ্ন করতে পারেন তাদের কতটুকু আন্তরিকতা, দক্ষতার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সেটা এখন আলোচনার বিষয় হতে পারে কিন্তু বাদি পক্ষে বা যারা ক্ষতিগ্রস্থ তাদের পক্ষে কোন আইনজীবি না থাকার অযুহাতে বা তদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কোন অযুহাত থাকতে পারে না। আমাদের সময়.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫