Skip to content

যুক্তরাষ্ট্রে হামলার মানচিত্র প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম দ্বীপের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিকল্পনা থেকে দৃশ্যত বিরত থাকলেও উত্তর কোরিয়া ভিতরে ভিতরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা গেছে, কি পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে তারা। কিভাবে তারা গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে, কোথা থেকে ছুড়বে। এসব ছবিতে দেখা যায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করছেন সেনাবাহিনীর শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা। তাতে একটি ব্যাটন বা ক্ষুদ্র লাঠি ধরে আছেন কিম জং উন। তিনি সেটা দিয়ে মানচিত্রের ওপর একটি স্থান নির্দেশ করছেন। তাতে লেখা ‘স্ট্রাটেজিক ফোর্সেস ফায়ারিং স্ট্রাইক প্লান’। উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে তা কোন পথে উড়ে যাবে তা দেখানো হয়েছে ওই পরিকল্পনায়। সিউলে কিউঙ্গনাম ইউনিভার্সিটির ইন্সটিটিউট অব ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের সামরিক বিশেষজ্ঞ কিম ডং-ইয়ুব বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র যেখান থেকে ছোড়া হবে বলে দেখানো হচ্ছে মানচিত্রে সেটা র্দশ্যত সিনপো। এটি উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের একটি শহর। এখানে রয়েছে তাদের সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজের ঘাঁটি। কিম ডং-ইয়ুব বলেছেন, গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া যে চারটি মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘোষণা দেয় তা সিনপো থেকেই ছোড়া হবে বলে মনে হচ্ছে। এখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে তা জাপানের শিমানে, হিরোশিমা ও কোইচির ওপর দিয়ে ১০৬৫ সেকেন্ডে ৩৩৫৬.৭ কিলোমিটার দূরতে উড়ে গিয়ে আঘাত করবে গুয়াম থেকে ৩০ বা ৪০ কিলোমিটার দূরে। তিনি বলেন, টেলিভিশনে ও সংবাদপত্রগুলোতে এ মানচিত্র উত্তর কোরিয়ার সব নাগরিকই দেখেছেন। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তার আস্থার প্রকাশ ঘটাচ্ছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বলছে, যদি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে হয় তাহলে এক্ষেত্রে তাদের চেষ্টা থাকতে হবে। কিম ডং-ইয়ুব আরো বলেন, উত্তর কোরিয়ার এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে ইঙ্গিত মেলে যে, তারা এই কর্মসূচি অনেক আগে থেকে শুরু করেছে। এর ওপর গবেষণা করেছে এবং প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন নির্দেশ হলেই তা ছোড়া হবে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাকযুদ্ধ হয়েছে বা হচ্ছে। উভয় দেশই সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছে একের বিরুদ্ধে অন্যে। এতে কোরিয় উপদ্বীপ অঞ্চলে যুদ্ধের ঘনঘটা চলছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ওই অঞ্চলের মানুষ। তবে গুয়ামের মানুষের আতঙ্কও কম নয়। উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে তা তাদের ভূখন্ডের কাছে পড়বে। যদি হিসাবে একটু ভুল হয় তাহলে তা জনবসতিতেও পড়তে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা দেখা দিতে পারে। এ জন্য গুয়ামের মানুষ রাতজেগে প্রার্থনা সভার আয়োজন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম মাতিস সোমবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র যদি গুয়ামের দিকে ছুটে আসে তাহলে তা পথিমধ্যেই থামিয়ে দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ২০১৩ সালে যখন উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম, হ্ওায়াই সহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছিল তখনও কিছু ছবি প্রকাশ করেছিল উত্তর কোরিয়া। তাতে কিম জং উনকে সেনা কমান্ড সেন্টারে দেখা গিয়েছিল। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে হামলা চালাতে রকেট স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে এমন একটি নির্দেশে স্বাক্ষর করেন। ওই সময় অন্য ছবিতে দেখা যায় ‘ইউএস মেইনল্যান্ড স্ট্রাইক প্লান’ লেখা একটি বিশাল চার্ট। তাতে দেখানো হয় তারা যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই, ওয়াশিংটন ডিসি, টেক্সাসে হামলার টার্গেট করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় কোনো ঘাঁটি বা মূল ভূখন্ডে হামলার হুমকি কখনো উত্তর কোরিয়া বাস্তবায়ন করে নি। তবে কিম জং উনের যে ছবি প্রকাশ হয়েছে সর্বশেষ তাতে তাকে ঘিরে থাকা সেনাবাহিনীর কয়েকজন জেনারেলকে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছেন কিম জং সিক। তিনি রকেট বিজ্ঞানী। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অন্যতম মূল হোতা হিসেবে দেখা হয় তাকে। তাদেরকে দেখা যায় একটি কক্ষে। এটাকে বলা হয় ‘ওয়ার রুম’ বা যুদ্ধ সংক্রান্ত কক্ষ। ওই কক্ষে আরো দেখা গেছে দেয়ালে ঝোলানো দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অপারেশন জোন চিহ্নিত করা ম্যাপ। কিম জং উনের বাম পাশে দেখা গেছে স্যাটেলাইনের একটি সাদাকালো ছবি।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫