বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
সাভারের শিল্পনগরীতে প্লট না পাওয়া এবং ট্যানারীগুলো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন প্রায় ৮০০ কেমিক্যাল ব্যবসায়ী। হাজারীবাগে ট্যানারি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে লিংকেজ প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ঝুট চামড়া ও চামড়াজাতপণ্যের অনেক কারখানা। এ অবস্থায় ক্রেতা দেশগুলোর কাছে ইমেজ ধরে রাখতে চলমান সংকট দ্রুত সমাধানের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের।
খামারের এই জায়গায় গেল বছর চলতো পশুর হাড়-শিং’সহ উচ্ছ্বিষ্টাংশ প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম। ক্যাপসুল তৈরির জিলেটিন, আঠা ও সৌখিন বোতামের উপকরণ সরবরাহের ব্যবসা ছিল এখানে। অথচ ট্যানারি বন্ধ হওয়ায় অনেকটাই স্থবির এমন আরো নানা ব্যবসা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভোলা মিয়া বাধ্য হয়ে ৪০ বছরের পুরনো ব্যবসা ছেড়ে এখন নিজ কারখানায় গরুর খামার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগে আমি বছরে প্রায় আশি নব্বই লক্ষ টাকার ব্যবসা করতাম। এখন মালের চার্জ বেশি ধরে। আমরা যেখানে হাজারীবাগে করতাম পাঁচ টাকা চার্জে সেখানে নিচ্ছে ত্রিশ টাকা চার্জ। আমাদের পুষায় না। আমরা তো বেকার হয়ে গেছি।’
ঝুট চামড়া থেকে সাশ্রয়ী মূল্যের নন ব্র্যান্ডের জুতা-ম্যানিব্যাগ-বেল্ট’ এবং কেমিক্যালের বাজার গড়ে উঠেছে হাজারীবাগে। কিন্তু ট্যানারি সরে যাওয়ায় ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উদ্যোক্তারা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন এমনিতেই চামড়া রপ্তানিতে এখন মন্দাভাব। এ অবস্থায় লিংকেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন অবস্থা রপ্তানিতে আরো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করেন তারা।
এ সম্পর্কে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বর্তমানে যে মুদ্রানীতি আছে এবং সেটার জন্য বলা হয়েছে উৎপাদনশীল খাতে একটা ঋণনীতি করা যেতে পারে সেই ধরণের সহায়তার ক্ষেত্রেও এই শিল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে। আশপাশে বিসিকের যে অন্যান্য শিল্পের জায়গাগুলো রয়েছে সেখানে খালি প্লটে তাদের বিবেচনা করা যেতে পারে।’
সাভারের হেমায়েতপুরে নতুন চামড়া শিল্পনগরীতে ১৫৪টি ট্যানারির জন্য প্লট বরাদ্দ দেয়া হলেও জায়গা হয়নি লিংকেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর। সূত্র : সময় টিভি
