টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর এক তরুণীকে হত্যা করেছে ওই পরিবহনের কর্মীরা। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) হত্যার ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ওই বাসের চালক হাবিব (৪৫), সুপারভাইজার সফেদ আলি (৫৫) এবং বাসের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (২৫ আগস্ট) টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় এক অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরে তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। তবে লাশের আলামত দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে ওই মেয়ের পরিবার ছবি দেখে সেটি রুপার বলে শনাক্ত করে।
খুন হওয়া তরুণী জাকিয়া সুলতানা রূপার বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামে। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকা আইডিয়াল ল’ কলেজে এলএলবি শেষ পর্বে পড়াশোনা করছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়,বাসে রূপাসহ ছয় থেকে সাতজন যাত্রী ছিলেন। সব যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে নেমে যাওয়ার পর তারা রুপাকে ধর্ষণ করে। পরে তার লাশ টাঙ্গাইলের পঁচিশ মাইল এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।
মঙ্গলবার ( ২৯ আগস্ট) গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও ওই তরুণীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রুপা বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য সন্ধ্যা সাতটার দিকে ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। পরের দিন শনিবার কোনো খোঁজ না পেয়ে হাফিজুর ময়মনসিংহ যান এবং ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে নিহতের ভাই হাফিজুর সোমবার (২৮ আগস্ট) রাতে মধুপুর থানায় যান। সেখানে লাশের ছবি দেখে তা বোন রূপার বলে শনাক্ত করেন তিনি।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক হাবিব ও সুপারভাইজার সফেদ আলি ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছে। তাদের দাবি, তারা শুধু লাশ ফেলতে সহায়তা করেছে। তাদের আগামীকাল বুধবার আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।
