Skip to content

নিজ দেশ মিয়ানমারেই ফিরে যেতে চায় রোহিঙ্গা যুবক মুহাম্মদ আসন

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে আল-জাজিরার সাংবাদিক কেটি আর্নলকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে রোহিঙ্গা যুবক মুহাম্মদ আসন বলেছেন, তারা কোনো ধর্মীয় দ্বন্দ্ব চান না, শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ধর্ম অনুসরণ করতে চান। কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

২৪ বছরের এই যুবক জানান, রাখাইন অঞ্চলে সংকটের আগে হাইস্কুলে ইংরেজি ও বার্মিজ ভাষার ওপর লেখাপড়া করতাম। ইংরেজিতে পড়াশুনার লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একজন হিসেবে আমাদের দুর্দশা সারাবিশ্বের কাছে তুলে ধরা। একটি মুদি দোকানও চালাতাম। রাখাইনে আমরা ভাল ছিলাম না। কোনো স্বাধীনতা ছিল না আমাদের। কোনো দেশ বা স্থান থেকে মুদি দোকানের জন্যে মাল আনতে পারতাম না। অসংখ্য বিধিনিষেধ আমাদের চারপাশে জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল।

আমার মনে পড়ে, যখন মিলিটারিরা আমাদের গ্রামে আসে তখন নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে তারা। আমার প্রতিবেশি এ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হাতে একটি চাকু নিয়ে প্রতিবাদ করতে বের হয়ে পড়ে। মিলিটারিরা তাকে গুলি করে হত্যা করে, আমার চোখের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তারা আমাদের বছরের পর বছর ধরে মারধর করছে, নির্যাতন চালাচ্ছে, আমাদের চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করছে কিন্তু এখন তারা আমাদের গুলি করে মারছে। সেখানে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় বলেই আমি বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হই।

রোহিঙ্গা এই যুবক বলেন, গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আসার দৃশ্য আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তা কত মর্মান্তিক ছিল। পরনের লুঙ্গি ছাড়া আর কোনো কিছু আমি আনতে পারিনি। আমাদের সবকিছু ছিল। বাড়ি ঘর, দোকানপাট সব কিছু। আমি পালিয়ে আসতে পারলেও যারা এখনো রাখাইনে রয়ে গেছে তাদের কপালে কি ঘটেছে তা জানিনা।

বাংলাদেশে থেকে যাই তা আমি কখনো চাই না। আমরা ঘুমাচ্ছি রাস্তার পাশে, জায়গাটা ভেজা, স্যাঁতসেঁতে, কর্দমাক্ত স্থান। পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছি না। এত বেশি রোহিঙ্গা এসেছে যে বাংলাদেশের মানুষরা আপ্রাণ সাহায্য করছে, সহায়তা দিচ্ছে, অনেক ত্রাণ প্রতিষ্ঠান সাহায্য করছে, কিন্তু রোহিঙ্গার পরিমাণ এত যে ত্রাণ তার তুলনায় অপ্রতুল। এভাবে আমরাও কখনো জীবনযাপন করিনি।

আসন বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে আমরা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারি। বাংলাদেশ আমাদের দেশ নয়। বিপদে এদেশের মানুষ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। তারা আমাদের রোহিঙ্গা বলে ডাকে, আমাদের বার্মিজ বলে। আমরা রাখাইন থেকে এসেছি এবং ওটাই আমাদের জন্মভূমি।

আসন আরো বলেন, বিশ্ববাসীকে আমি অনুরোধ করি, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। যাতে আমরা আমাদের নিজেদের দেশ মিয়ানমারে অধিকার ফিরে পাই। সেখানো বৌদ্ধরা শান্তিতে বাস করে। তাহলে আমরা কেন তাদের মত বাস করতে পারব না। তারা বৌদ্ধ ধর্ম অনুসরণ করে, আমরা ইসলাম অনুসরণ করি। আমরা ধর্মীয় দ্বন্দ্ব চাই না। সংঘাত চাই না। তাদের মত আমরাও আমাদের ধর্ম অনুসরণ করতে চাই।

আল-জাজিরার এ প্রতিবেদনটি স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পাদনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর রোহিঙ্গাদের দুর্দশা সম্পর্কে আল-জাজিরা বলছে, বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা গত কয়েক সপ্তাহে এসেছে তাদের মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু। তারা সেখানে সহিংসতা, হত্যাযজ্ঞ ও নির্বিচারে গণধর্ষণের শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা একে জাতিগত নিধন হিসেবে উল্লেখ করেছে। মিয়ানমারের নেত্রী অং সাং সুচিকে তারা এধরনের সংঘাত বন্ধ করার জন্যে চাপ দিচ্ছে। আমাদের সময়.কম

 

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫