বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেছেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ স্বাভাবিক নিয়মে হয়নি। যদিও পদত্যাগ নিয়ে সরকার দল ও বিরোধী দল রাজনীতি করলেও কেউই লাভবান হয়নি। তবে তার পদত্যাগে বিচার বিভাগের কাছে সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিচার বিভাগ। সূত্র- বিবিসি বাংলা
প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ বিষয়ে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সরকারের সঙ্গে এস কে সিনহার দন্দ্বের মধ্য দিয়ে বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনার পর ভবিষ্যতে আর কোন বিচারপতি কোন রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলতে সাহস করবে না। এই ঘটনায় বিচারপতিদের ভূমিকা ছোট হয়ে গেলো। তবে এটা সবার জন্য একটা শিক্ষা যে তারা তাদের গণ্ডির ভেতরে থেকে কাজ করবে, তার বাইরে যাবে না।
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারের সাথে দন্দ্বের জের ধরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেছেন। যেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
এমন প্রশ্নের জাবাবে অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, পদত্যাগ প্রক্রিয়া যে ঘটনার মধ্যদিয়ে যাচ্ছিলো তাতে সবাই নিশ্চিতই ছিলো যে এস কে সিনহা পদত্যাগ করছেন। সিনহার এইভাবে অব্যাহতি একটি বাজে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলো। কারণ তিনি স্বাভাবিকভাবেও অবসরে যেতে পারতেন।
তিনি আরও বলেন, তাছাড়া প্রধান বিচারপতির ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পর্যায়ে অনেক আলোচনা হয়। দু’দলের মধ্যে তৈরি হয় নানা বিরোধীতা। এমনকি আপিল বিভাগের সাবেক একজন বিচারপতি তাকে রাজাকার হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে সেটা না হতেও পারতো। আমাদের সাধারণ মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে বিচার বিভাগ। তবে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উপস্থাপিত হয়েছে সেটা কতটুকু সত্য বা মিথ্যা সাধারণ জনগণ তা জানে না। আর যে অভিযোগ উপস্থাপিত হয়েছে সেটারও কোন ব্যাখ্যাও এস কে সিনহা এখনো দেয়নি। তাছাড়া অতীতে কোন বিচারপতির সাথে এমন ঘটনাও ঘটেনি।
আমাদের সময়.কম
