বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয নেয়া লাখো রোহিঙ্গা। সামনে শুষ্ক মৌসুমে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপর্যয় এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট স্থাপন করা হলেও ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশে পর্যাপ্ত সড়ক ব্যবস্থাপনা না থাকায় চিন্তিত ফায়ার সার্ভিসও। তবে অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
উখিয়া-টেকনাফের বনাঞ্চল সাবাড় করে ৩ হাজার একরের বেশি জায়গাজুড়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ছোট ছোট হাজারো তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ছোট ছোট খুপরি ঘরে জ্বলছে চুলা। এক হাত প্রস্থের তাঁবুতেই সারতে হচ্ছে তাদের থাকা খাওয়াসহ রান্না-বান্নার সকল কাজ। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপাংল আশ্রয় কেন্দ্রের প্রায় সব বসতির চিত্র একই ধরনের। ছোট তাঁবুতে রান্নার কাজ করতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই ঘটছে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এতে আতঙ্কিত বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।
রাখাইনের বুচিদং মন্নারপাড়া থেকে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া সাবের ইসলামের স্ত্রী মোস্তফা খাতুন (৪০) বলেন, সাত জনের পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসি। ক্যাম্পে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করছি। রাখাইনে আমাদের বাড়ির পাশে খাল ও পুকুর ছিল। আগুন লাগলে ভয় পেতাম না। এখানে আগুন ধরলে কোনো রক্ষা নেই। আগুন লাগলে পানি কোথায় পাব আগুন নিভানোর জন্য। আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না আমাদের কি অবস্থা হবে।
অভিজ্ঞ মহল বলছে, রোহিঙ্গাদের জন্য পরিকল্পিত ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ে থাকা বস্তিতে আগুন লাগলে তা বড় ধরনের হতাহতের কারণ হতে পারে। এ থেকে বাঁচার জন্য আগে থেকে পরিকল্পিত বসতি স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।
তাঁবুগুলোতে সঙ্কুলান হচ্ছে না অনেক পরিবারের। প্রত্যেক পরিবারে ৫-৬ জনের বেশি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে রয়েছে। আবার ত্রাণের মালামালে ভরপুর হয়ে গেছে তাদের ছোট ঝুপড়ি ঘরগুলো।
কুতুপালং ক্যাম্পের ইনচার্জ ও উপসচিব মো. রেজাউল করিম জানান, সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর যৌথ ভাবে প্রায় ৩ হাজার একর জায়গাজুড়ে এক লাখ ১০ হাজার তাঁবু বসানো হয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের বিপর্যয় এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। আগুন দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, রোহিঙ্গারা যেভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেখানে প্রচুর পরিমাণ পানি মজুদের কোনো ব্যবস্থা নেই। এনজিওগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখন গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছে যত্রতত্র। পাশাপাশি এনজিওদের প্রণোদনায় রোহিঙ্গারা গ্যাস ছাড়া রান্না কাজ করছে না। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যে কোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে অসচেতন রোহিঙ্গাদের শিশু সন্তান সবচেয়ে বেশি হতাহত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক আরো জানান, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ইতোমধ্যে তিনটি রিজার্ভারের মাধ্যমে পানি মজুদ রেখেছে। প্রতিটি রিজার্ভারের ধারণক্ষমতা ১৮শ’ গ্যালন। রিজার্ভার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তবে পর্যাপ্ত পানি মজুদ ও যাতায়াতের প্রশস্ত রাস্তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি জানান।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কর্মী বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। ক্যাম্পে বিভিন্ন দুর্ঘটনা এড়াতে অস্থায়ী ক্যাম্প বসানোর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান। মানবকণ্ঠ
