Skip to content

অচল হয়ে যাচ্ছে ঢাকার ট্রাফিক

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা এত চরমে পৌঁছেছে যে কে ট্রাফিক আইন ভাঙ্গছে তা দেখভাল করা পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না। সঠিক পরিকল্পনার অভাব যেমন আছে তেমনি উপকরণেরও সংকট রয়েছে এমনটাই বলছেন শহর ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।

বেপরোয়া ও ভুল পথে গাড়ি চালানো, তীব্র হর্ণ, বেকন লাইট, প্রলেপযুক্ত গ্লাস, ফুটপাতে মোটরসাইকেল, সিটবেল্ট না বাঁধা, হেলমেট ব্যবহার না করা কিংবা অবৈধ পার্কিং এসব নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসবই অস্থির ও গোলোযোগপূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রতীকি রুপ যেন। যখন এসব নিয়ে হাইকোর্ট, বিআরটিএ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে সতর্কতা ও নির্দেশ কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ডিএমপি ও বিআরটিএ প্রতিদিন সরেজমিনে ট্রাফিক অভিযান ও বিধিভঙ্গের দায়ে হাজারো মামলা দায়ের করে যাচ্ছে, পরিস্থিতির কোনো হেরফের হচ্ছে না।

গত ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ট্রাফিক আইন ভঙ্গে ডিএমপি ৮ লাখ ৭৫ হাজার মামলা ও ৪১ কোটি ১৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এসব মামলার ২ লাখ ২১ হাজার হয়েছে মোটরসাইকে চালকের বিরুদ্ধে, ভুল পথে গাড়ি চালানোর জন্যে ৭৫ হাজার ৬১৬টি, হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারে ২৭ হাজার ৩৯৩টি, হুটার ও বেকন লাইট ব্যবহারে ২ হাজার ৪১০টি, প্রলেপযুক্ত গ্লাস ব্যবহারে ২ হাজার ৪টি মামলা ছাড়াও ৩ হাজার ৬৪৬টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

গত অক্টোবর পর্যন্ত বিআরটিএর নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটরা ১৫ হাজার ৩৬টি মামলা করেছে এবং জরিমানা আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এসময় ৩৯৯টি যানবাহন বাতিল করা ছাড়াও ৪৬১ জনকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জন্যে আটক করা হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ও শহর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, ট্রাফিক নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নেই। তিনি স্থায়ী ট্রাফিকের বদলে স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন। এজন্যে মোবাইল অ্যাপ ও সাধারণ মানুষকে নিয়োগ করে সহজেই এধরনের ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক ফল পাওয়ার সাথে সাথে ভাল ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি যে মুহূর্তে সম্ভব হবে তখন সহজেই মানুষ উপলব্ধি করতে পারবে আইন সবার জন্যে সমান। হঠাৎ করে মানিক মিয়া এভিনিউতে কিছু সময়ের জন্যে গাড়ি বন্ধ করে ফল পাওয়া যাবে না যদি না রাস্তা ব্যবহারকারীরা সচেতন না হন।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চালকরা সবচেয়ে বেশি নিয়মিত ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে। পরিকল্পনার অভাব, পার্কিংএর নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় এবং ধীরগতির যানবাহন থাকার কারণে স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে মানুষ ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে। প্রয়োজন ও বাস্তবতার মধ্যে বিরাট ফারাক থাকায় নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের প্রচেষ্টা বা অভিযান কোনো কাজে আসে না।

ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মোশলেহ উদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, তারা মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা ও যানজটের ফলে অচলাবস্থারও উন্নতি হচ্ছে। প্রতিদিন ট্রাফিক ভঙ্গে যেখানে সাড় ৩ থেকে ৪ হাজার মামলা হত তা কমে আড়াই থেকে ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি মোটরসাইকেল চালক, ভিআইপ, পুলিশ, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে।

বিআরটিএ পরিচালক নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে সময়ের প্রয়োজন। বেশিরভাগ মানুষ আইন মেনে চলছে।

গত ৫ মে ডিএমটি সাংবাদিক, পুলিশ ও আইনজীবীদের স্টিকার ছাড়াও হুটার, হাইড্রোলিক হর্ণ ও বেকন লাইট ব্যবহার বাতিল করে। গত ২৩ অক্টোবর হাইকোট সরকার ও পুলিশকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে বলে কেন ভিআইপি ও ভিভিআইপিরা যানজট এড়াতে রং সাইড দিয়ে গাড়ি চালানোর সুযোগ পাচ্ছে সে সম্পর্কে ব্যাখা করার জন্যে। নিউ এজ থেকে অনুবাদ

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫