বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
দুর্নীতি নীতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫তম। বাংলাদেশে বছরের পর বছর ব্যাংকিং খাতে যেমন কোটি কোটি টাকা আত্মসাত হচ্ছে, তেমনি পাবলিক পরীক্ষায় মহামারি আকার ধারণ করেছে প্রশ্ন ফাঁস।
গবেষণায় দেখা যায়, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির স্বীকার হচ্ছে মানুষ। বাংলাদেশের সমাজে বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র থাকা সত্ত্বেও কেন এটিকে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না?
এ প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেছেন বাংলাদেশের দুনীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটা স্তরে স্তরে দুর্নীতি। সরকারি বেসরকারি সবখানে দুর্নীতি আছে। দুর্নীতি যেহেতু আছে চাইলেও এটাকে কনভার্ট করা যাবে না। দুর্নীতি আগে যেমন একটা ঘৃণার ব্যাপার ছিল, এখন এটা ঘৃণার কোন ব্যাপার নেই। সমাজে টাকা হলে বেশি শক্তি আসে, বেশি শক্তি আসলে বেশি ক্ষমতাও আসে। এ পরিস্থিতি হয়েছে দুর্নীতির ব্যাপারে। দুর্নীতির ব্যাপারে কঠোর অবস্থান হওয়া উচিত ছিল। সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থানে যাওয়া বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশন কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে কিনা সেটা নিয়েও নানা রকম প্রশ্ন আছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাগুলোর মতে দুর্নীতি কমিশনটি আসলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সরকার যে দুর্নীতিগুলোকে সামনে আনতে চায় শুধুমাত্র সেগুলোই সামনে আসে কিন্তু অনেক দুর্নীতির মামলা অন্তরালে থেকে যায়।
এ প্রসঙ্গে ইকবাল মাহমুদ বলেন, গত দেড় বছরে আমি রাজনৈতিকভাবে কোন মামলা করি নাই। আর আপনাকে বুঝতে হবে যখন আমি ক্ষমতায় থাকি আমার খারাপ কাজগুলো আপনার সামনে উপস্থাপন করবো না। আমি যখন চলে যাব, আমার পরবর্তী আরেকজন যখন আসবে তখন সে দেখবে আমার কাজ কী ছিল। একারণে আপনারা দেখছেন বিরোধী দলের পক্ষে বেশি মামলা হয়।
মানুষের আস্থার জায়গায় দুর্নীতি দমন কমিশন পৌঁছাতে পারেনি সেখানে ব্যর্থতার দায়টা কার?
এ প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সংস্থার নিজেরই ব্যর্থতার দায়। দুর্নীতি সংস্থার সমস্যা আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ম্যানপাওয়ারের সমস্যা। আমাদের সাথে যেসব লোক কাজ করে তাদের সক্ষমতার অভাব আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীন হলেও সে অর্থে স্বাধীন না। আপনি নিজের কাছে নিজে পরাধীন এমন পরিণতি যদি হয় তাহলে সংস্থার এক্সিটেন্ট ইজ এ স্টে। সে কাজ তো আমি করবো না।
যদি কাজ করতে না পারেন তাহলে সে কমিশনে থেকে লাভ কী?
এ প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, থেকে লাভ হচ্ছে। আপনি সব কাজ করতে পারবেন। কিন্তু কিছু তো পারবেন। এ সংস্থা থাকা প্রয়োজন। তবে এ সকল সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। তবে এ সকল সংস্থার সমস্যা হয়ে গিয়েছিল যেসকল রিক্রুটমেন্ট হয়েছিল এটাই ছিল সমস্যা। গত কমিশন সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে ৫০০ লোক এক যোগ করলেও গ্রেপ্তার হয়নি, আমরা গ্রেপ্তার করেছি। বেসিক ব্যাংক নিয়ে পত্র-পত্রিকায় বহু কিছু, বেসিক ব্যাংকের মামলাও হয়েছে বহু আগে, সমালোচনাও হচ্ছে। আব্দুল হাই বাচ্চুকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সেটা আসলেও অনেক দীর্ঘসময় পরে কি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে?
এ প্রসঙ্গে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দীর্ঘসময় তো লাগবে আমরা তো আইডিয়াস সিচুয়েশনে কাজ করি। আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অথনৈতিক ও সামাজিক সবকিছু একটা আদর্শের ওপর চলছে।
কখনো কি আপনি হতাশবোধ করেন এ সমস্ত বিষয় নিয়ে?
এ প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমি স্বীকার করি হতাশ হয়ে পড়ে মাঝে মাঝে মনে হয়, আসলে এটা কি হচ্ছে? আমি কি করছি? কিছুই তো করতে পারি নাই এটা আমি স্বীকার করব না। আমরা জনগণের কাছে একটা বার্তা দিতে পেরেছি একটি প্রতিষ্ঠান আছে তাই দুর্নীতি করাটা ঠিক হবে না।
আমাদের সময়.কম
