বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ঢাকার অদূরের শিল্প শহর গাজীপুর। ৩৩০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই নগরীতে রয়েছে হাজার হাজার শিল্প-কলকারখানা। কাজ করছেন লাখ লাখ শিল্প শ্রমিক। কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। অথচ নগর উন্নয়নে কোনো পরিকল্পনা না থাকায় গাড়ির স্ট্যান্ড আর ময়লার শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে গাজীপুর। নগরজুড়ে মহাসড়ক আর ফুটপাথ দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দোকানপাট, গাড়ির স্ট্যান্ড। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। নগরীর চারদিকে তাকালে মনে হয়, এ যেন এক বিশৃঙ্খল শহর। সিটির মেয়র থেকেও নেই। এর ফলে দিন দিন ডাস্টবিনের নগরীতে পরিণত হচ্ছে গাজীপুর। সিটি মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অফিস না করায় গাজীপুরবাসী নগর ভবনে এসে মেয়রকে না পেয়ে অনেকটাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার অভাবে এমনকি দখলবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুর শহরের মানুষ তাদের এই শহরটিকে দুর্দশা, আবর্জনা আর বিশৃঙ্খলার শহর মনে করছেন।
টঙ্গী-কালিগঞ্জ সড়কের স্টেশনরোড এলাকায় সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে সিএনজি, অটো, লেগুনা স্ট্যান্ড ও পরিবহন কাউন্টার। টঙ্গী কামারপাড়া সড়কের প্রবেশ পথে সিএনজি স্ট্যান্ড এবং ফুটপাথ দখল করে শত শত দোকান বসিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে দখলবাজরা। টঙ্গী মিলগেট থেকে শুরু করে চেরাগআলী পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার মহাসড়ক দখল করে ট্রাকস্ট্যান্ড বানিয়ে প্রতি গাড়ি থেকে ৮০-১০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। টঙ্গী চেরাগআলী সড়কের প্রবেশ মুখে সড়ক দখল করে অটোস্ট্যান্ড বানিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে। টঙ্গী পৌরসভার সামনে মহাসড়ক দখল করে ভাসমান দোকান বসিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা নিচ্ছে চিহ্নিত চাঁদাবাজরা। এমনি করে বড়বাড়ী, বোর্ডবাজার, মালেকের বাড়ি, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, শিববাড়ী, মিরাবাজার, পুবাইল বাজারসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দখল করে স্ট্যান্ড বানানোর ফলে এক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচলে দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ।
এদিকে নগরজুড়ে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ। টঙ্গী টেলিফোন শিল্প সংস্থার পাশে মহাসড়কে, টঙ্গী উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে, হোসেন মার্কেট, বড়বাড়ী, বোর্ডবাজার, মালেকের বাড়ি, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, শিববাড়ী, মিরাবাজারসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ময়লার স্তূপ জমে থাকে। ময়লার উত্কট দুর্গন্ধে এলাকাবাসী ও পথচারীরা চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এমনকি ময়লার ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা জালাল উদ্দিন মাস্টার ব্যবসায়িক কাজ সেরে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে জয়দেবপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাশে পড়ে থাকা ময়লার ওপর পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ময়লা আর ময়লা। টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের ডিভাইডার ঘেঁষে ময়লা জমে প্রায় এক ফুট উঁচু হয়েছে।
দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় এমন অবস্থা হয়েছে। টঙ্গী কালিগঞ্জ সড়ক ও টঙ্গী নতুন বাজার এলাকায় আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়ালসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা। এ বিষয়ে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিন রেজা বলেন, টঙ্গী কালিগঞ্জ সড়কের টেন্ডার হয়েছে। ঠিকাদাররা রাস্তা মেরামতসহ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়ালসড়কে ময়লা পরিষ্কার করবে।
এলাকাবাসী বলেন, বাসা থেকে বের হলে রাস্তায় ময়লা আর দুর্গন্ধে হাঁটা যায় না। অন্যদিকে সড়ক দখল করে টেম্পোস্ট্যান্ড, সিএনজিস্ট্যান্ড, বাস কাউন্টার, শত শত দোকানপাট বসিয়ে চাঁদা আদায় করছে। মানুষ হাঁটবে কোথায়?
গাজীপুর সিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, ময়লা অপসারণে স্থায়ী সমাধানে গাজীপুরের কাশিমপুর, কোনাবাড়ী ও সালনা এলাকায় মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে ১০০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণ কাজ প্রক্রিয়াধীন ছিল। বর্তমান মেয়র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখায় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া থমকে গেছে। এত বড় সিটি করপোরেশন উন্নয়নে বিদেশি সংস্থা ও সরকারি দফতরে যেতে হবে। ঘরে বসে থাকলে নগর উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না।
এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সড়ক থেকে ময়লা সরানোর জন্য প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক দখল করে যারা স্ট্যান্ড ও দোকান গড়ে তুলেছেন বিআরটিএ প্রজেক্টের কাজ শুরু হলে এসব থাকবে না।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
