বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
আত্মপরিচয় লাভের সাড়ে চার দশক পরও বাংলাদেশ ভুগছে নতুন বিনিয়োগের অভাব আর উদ্যোক্তা সংকটে। দেশের অর্থনীতি এখনও অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ আর ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগেই সীমাবদ্ধ। ব্যাংকিং খাতের উদাসীনতা আর সরকারি সেবাসংস্থাগুলোর অসহযোগিতায় বদলাচ্ছে না এমন দৃশ্যপট বলছেন উদ্যোক্তরা। তবে প্রচলিত চাকুরীমুখী শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন চান অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, উদ্যোক্তাবান্ধব দেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণে জরুরি।
যুদ্ধবিদ্ধস্ত স্বাধীন এই রাষ্ট্রের পথচলা শুরু হয়েছিলো বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকা-ের উপর। ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় প্রায় শূন্য থেকেই বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ আর সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকা- শুরুর উদ্যোগ নেন আজকের সফল ব্যবসায়ীরা। আশির দশকের শেষভাগে এসে তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে মেড ইন বাংলাদেশ।
এ সম্পর্কে কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংকগুলো বড় বড় কোম্পানিগুলোকে দেখভাল করে, লোন বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু নতুন উদ্যোগগুলোকে কেন দেয়া হচ্ছে না।’
এদিকে ব্যক্তিখাতে নতুন উদ্যোগ সবচেয়ে সফলতার মুখ দেখেছে নব্বই দশকজুড়ে। কিন্তু ২০০০ সালের পর নিত্যনতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র খোঁজা কিংবা ঝুঁকি নিয়ে অর্থলগ্নি, কোনটিতেই আর আগ্রহ দেখায়নি তরুণ সমাজ। নিরাপদ জীবনযাপনের লক্ষ্যে চাকুরীর পেছনে ছুটছে শিক্ষিত তরুণরা। উদ্যোক্তারা বলছেন, এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদে বড় সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ।
এ সম্পর্কে ইউ ওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফারহানা এ রহমান বলেন, ‘আমাদের সবার মাস্টার্স পাশ করার প্রয়োজনটা কী? সেই প্রয়োজনীয়তাটা আছে কিনা সেটা আমাদের ভেবে দেখা দরকার। উদ্যোক্তা হতে হলে তো অনেক ধরণের ঝুঁকি নিতে হয়। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষিত পেশার বাইরে পরিবার আসলে ওই ঝুঁকিটা নিতে চায় না।’
পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশের উদ্যোক্তাশ্রেণী আপেক্ষিকভাবে কম বয়সী। এখন সমস্যা হলো এদের কিভাবে আরও বড় করা যায় সেই চ্যালেঞ্জটা।’
বর্তমানে প্রতিবছর দেশের কর্মবাজারে প্রবেশ করছে ২৬ লাখ মানুষ যেখানে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হচ্ছে মাত্র ৮ লাখের। একজন ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠান, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এমন নীতি অনুসরণ করে বিশ্বের বহু দেশ। তবে এমন নীতিতে নেই বাংলাদেশ। এদিকে উদ্যোক্তা তৈরীর বাধাগুলো চিহ্নিত। ফলে ব্যক্তিপর্যায়ের ছোটখাটো উদ্যোগগুলো এক সুতোয় মালা গাথার দায়িত্ব এখন রাষ্ট্রের।
সূত্র : সময় টিভি
