Skip to content

ন্যায়সঙ্গতভাবে অধিকার খর্ব না হলে পুলিশের ওপর ক্ষোভ বৃদ্ধি পায় : সাবেক আইজিপি

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
পুলিশ সপ্তাহে বলা হচ্ছে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গত ৫ বছরে তুলনামূলক অপরাধ কমেছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে এ সময়টিতে ডাকাতি, নারী নির্যাতন, খুন, অপহরণের মতো অপরাধের হার কমেছে। তারপরেও এ পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে প্রচন্ড অসন্তোষ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এ প্রসঙ্গে পুলিশের সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, পুলিশের কাজ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সাথে সম্পর্কযুক্ত। এ জন্য অল্প কিছু লোকের নিয়ম বহির্ভূত কাজও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। কেউ যদি অন্যায়ভাবে আটক হয় তাহলে সেটার প্রভাব খুব বিশাল হয়ে থাকে। মানুষের সিভিল লিবারটির সাথে সম্পর্ক যেখানে, সেখানে সামান্যতম বিচ্যুতিও মানুষকে অনেক বড় রকমভাবে প্রভাবান্বিত করে। এ সমস্ত কারণের জন্য হয়তো পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে এবং নেতিবাচক চিত্র দেখা যায়। এটার প্রভাবটা বেশি। পুলিশকে আইনত মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করার অধিকার দেয়া আছে ন্যায়সঙ্গত উপায়ে। সর্বোচ্চ হয়তো ন্যয়সঙ্গত উপায়ে হয় না। সেজন্য হয়তো জনগণের ক্ষোভটা বেশি থাকে।

পুলিশকে জনমুখী বা জনবান্ধব করার পদক্ষেপের কথা আমরা প্রায়শ শুনি আরো বেশি সংখ্যায় পুলিশ নিয়োগ করা হচ্ছে কিন্তু সেবার মাধ্যমে মানুষের আরো কাছাকাছি পৌঁছানোর যে বিষয়টা সেটা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে?

জবাবে নুরুল হুদা বলেন, এটা নিশ্চিত করার ব্যাপারে ডিপার্টমেন্টে যারা কাজ করে পেশাগত পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন তাদের বড় ভূমিকা আছে। সবচেয়ে বড় ভূমিকা হচ্ছে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করেন যারা। রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত যেভাবে হয়, যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা পলিটিক্যাল এক্সিকিউটিভ। যারা মেম্বার পার্লামেন্ট বা মিনিস্টার তারা একদিকে আইন প্রণেতা অন্যদিকে তারা রাষ্ট্রের যে নির্বাহী বিভাগ, সে নির্বাহী বিভাগেরও সদস্য। তারা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশের সেবা কিভাবে দিতে চায় তার ওপরও বিষয়টি অনেক সময় নির্ভর করে। কেননা এ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে পুলিশকে কাজ করতে হয়।

রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বলয় থেকে একটা বাহিনীকে মুক্ত রাখা কতটা জরুরি?

জবাবে নুরুল হুদা বলেন, মুক্ত বলতে স্বাধীনতা বুঝায় না। গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশ বাহিনীকে রেসপন্সিবল হতে হবে। দায়িত্ববান হবে সে পার্লামেন্টের কাছে। আল্টিমেটটলি পার্লামেন্টের কাছে হবে। তদন্তের কাজ আছে সে আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তার যে প্রশাসনিক যে সমস্ত কাজকর্ম আছে। তার জন্য তাকে তার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পার্লামেন্টের কাছে যেখানে জনপ্রতিনিধি আছে, সেখানে তারা জবাবদিহি করতে বাধ্য। অতএব তাকে তো জবাবদিহি করতে হবে। তাকে একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে। তবে আইনের আওতায় থাকতে হবে।

বিভিন্ন সময় পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যদের বিরুদ্ধে অনেক ধরণের অভিযোগ ওঠে এসব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয় কতটা?

জবাবে নুরুল হুদা বলেন, এটা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে হতে পারে ক্ষেত্রবিশেষে এটা ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের বিচ্যুতি হতে পারে। এখন আইনত আমাকে বলে দেয়া আছে কাজটা আমাকে কী করতে হবে? প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি যিনি আইনানুগভাবে কাজ করতে বাধ্য। এখন তার কাজে যদি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তির এবং সংস্থার বিচ্যুতি থাকে তাহলে ধরতে হবে যে আমাদের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের এবং যেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বেশি তারা হয়তো প্রভাবান্বিত একটা ব্যবস্থাকে সঠিক ব্যবস্থা মনে করছেন। তারা তাহলে আইনের শাসন স্থাপনে খুব দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হচ্ছেন না। প্রত্যেক পুলিশ অফিসারই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি আইনানুগভাবে তাকে কাজ করতে হবে। তার উপরস্থ তাকে কোন বেআইনি আদেশ তাকে দেয় সে তা পালন করতে বাধ্য না। এগুলো সব বইতে লিখে দেয়া আছে। পুলিশ ব্যবহারকারী হিসেবে তার প্রয়োগ করলে তাহলে তিনি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারবেন। এগুলোর ব্যবহার হয়তো হচ্ছে না।

আমাদের সময়.কম

 

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫