বাংলাভুমি ডেস্ক ॥
একরাম হত্যাকাণ্ড অথবা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যারা নিহত হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকর্তৃক অ্যাক্সিকিউটিভ ইনকুয়ারি করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আইনবহির্ভূতভাবে একরাম বা অন্য কাউকে হত্যার অধিকার পুলিশ-র্যাব কাউকেই যেমন দেওয়া হয়নি, ঠিক তেমনিভাবে পুলিশ-র্যাবের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে সেটারও যথেষ্ট আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে। সেই আইনগতভিত্তিই হচ্ছে একটা অ্যাক্সিকিউটিভ ইনকুয়ারি।
তিনি আরও বলেন, একরাম হত্যাকাণ্ড একটি অমানবিক ঘটনা। অত্যন্ত মর্মস্পর্শী, হৃদয়বিদারক ঘটনা নিঃসন্দেহে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্তে কাউকে দোষী পাওয়া গেলে, দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনে বিধান আছে, কোনো ধরনের ফায়ারিং যদি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ইনকুয়ারিতে জাস্টিফাইড না হয় তাহলে সেটা খুন হিসেবে চিহ্নিত হবে। এবং যারা করেছেন তারা খুনের অপরাধী হবে। অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা হতে হবে। ফলে একরাম হতাকাণ্ডের বিষয়েও এই প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করে আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে হবে। যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার করতে হবে। এই অপরাধটাকে নিশ্চিত করার জন্য একটা জুডিশিয়াল অ্যাক্সিকিউটিভ ইনকুয়ারি করা দরকার।
এক প্রশ্নের জবাবে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, একরাম হত্যাকাণ্ড কীভাবে হয়েছে কেউ এ বিষয়ে চট করে সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। যেটা আমি আগেই বলেছি, এই ঘটনার একটা অ্যাক্সিকিউটিভ ইনকুয়ারি করতে হবে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে। যেটা সম্পন্ন পুলিশ প্রতিবেদন থেকে আলাদা। এটা এক্সক্লুসিভলি একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে ইনকুয়ারি করতে হবে। সেই অ্যাক্সিকিউটিভ ইনকুয়ারিতে যদি বেরিয়ে আসে যে, একরাম হত্যাকাণ্ডে অন্যায় হয়েছে, তাহলে যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মালা হতে হবে। আমি তদন্ত ছাড়া চট করে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। তদন্ত করার ক্ষমতা তো ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেট বা কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার জন্য। ম্যাজিস্ট্রেট একটি অ্যাক্সিকিউটিভ ইনকুয়ারি করবেন।
তিনি বলেন, চলমান অভিযানে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হচ্ছে। তবে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য এ ধরনের অভিযান দরকার। তবে অভিযান প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকেরই। এই অভিযান প্রক্রিয়াটা যেন সম্পূর্ণ আইনগতভাবে হয়। আইনবহির্ভূত হলে তা আমাদের জন্য একটা দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তাই যে ধরনের হত্যার ঘটনা ঘটছে সেসবের অ্যাক্সিকিউটিভ ইনকুয়ারি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ব্যবস্থাটা না নিলে মানুষের মধ্যে এখন যে শঙ্কা, আশঙ্কা ও উদ্বেগ তা কাটবে না। এছাড়া হত্যার ঘটনাগুলো অবশ্যই উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। সে মাদক ব্যবসায়ি, নিরাপত্তা বাহিনী বা অন্য স্তরের মানুষই হোক, জনপ্রতিনিধি কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। সবাইকে আইনগতভাবে চলতে হবে, যার ক্ষেত্রে আইন ব্যত্যয় হয়েছে তার বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সূত্র: আমাদের সময়
