Skip to content

মিতু হত্যা মামলা: আসামি নয়, সাক্ষী রাখা হচ্ছে বাবুলকে

স্টাফ রিপোর্টার ॥
চট্টগ্রাম: সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে সাক্ষী রেখে চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিতে যাচ্ছে পুলিশ। মিতু হত্যাকান্ডের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে ৫ জুন। এই দিন অথবা ৬ জুন আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এমনটি জানিয়েছেন।

তবে হত্যাকান্ডের পর শুরু থেকে মামলাটি তদন্ত করছেন চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান। মামলা তদন্ত এবং অভিযোগপত্র দাখিল করা নিয়ে জানতে চাইলে তাঁর চিরায়ত মন্তব্যটিই করেছেন ‘আন্ডার ইনভেস্টিগেশন’। মামলার অভিযোগ পত্র কবে নাগাদ দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট দিনক্ষণ তো বলা যাবে না। তবে যত দ্রুত সম্ভব দিয়ে দেবো। হত্যার নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাওয়া যায় নি বলে যে পাওয়া যাবে না, তাতো বলা যাবে না।

তবে বাবুল আক্তারকে আসামি না করলে মিতুর বাবা আদালতে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন এমন কথা প্রসঙ্গে এসিডিবি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ওই বিষয়টি আমাদের দেখার বিষয় না। ‘সেটি একান্ত উনাদের বিষয়।’ বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে মিতুর মা বাবার অভিযোগ থাকার পরও তাকে আসামী থেকে বাদ দেওয়া বিষয়ে এডিসি কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আলোচিত এই মামলা আমরা বিভিন্ন ভাবে তদন্ত করেছি। তদন্তে বাবুল আক্তারের জড়িত থাকার তথ্য পাইনি। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু তদন্তে যদি সেটা প্রমাণ না হয় তাকে আসামি কিভাবে করব? ‘আর মোশাররফ সাহেব একেকসময় একেক কথা বলেন। আগে বলেছিলেন, বাবুল আক্তার জড়িত নন, এখন বলছেন জড়িত। আমরা কোনটা বিশ্বাস করব? ।

সিএমপি সূত্রে জানাগেছে, আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মিতুর মা-বাবার অভিযোগ থাকলেও এই অভিযোগপত্রে আসামির তালিকায় থাকছে না বাবুল আক্তারের নাম। তার বিরুদ্ধে সত্যতা না পাওয়ায় অভিযোগপত্রে এক নম্বর সাক্ষী হিসেবে রাখা হচ্ছে।

তবে এক সূত্রে জানাগেছে, বাবুল আক্তারকে আসামী করা না হলে ওই অভিযোগ পত্র গ্রহণ করবে না। তারা এই অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দিবেন বলেও জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

প্রসঙ্গত: গত বছর ৫ জুন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ও আর নিজাম রোডস্থ বাসা থেকে শিশু পুত্র মাহিরকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাচ্ছিলেন মাহমুদা খানম মিতু। মাঝ রাস্তায় ওঁত পেতে থাকা ঘাতকেরা তাকে ছুরিকাঘাত করে ও সবশেষে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। নির্বিঘ্নে অপারেশন চালাতে গোপন রাখা হয় মিতুর পরিচয়। খুনিদের কাছে ’জঙ্গিনেত্রী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় মিতুকে। খুনের আগে ভাড়াটে ব্যক্তিদের নিয়ে পরিকল্পনা বৈঠকও করে মুছা। প্রথমে মিতুকে সামনে ও পেছন থেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে নবী। এর পর গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ওয়াসিম ও মুছা। খুনের সময় ঘটনাস্থলে রেকি করে আনোয়ার। এ সময় ব্যাকআপ ফোর্স হিসেবে ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিল রাশেদ, শাহজাহান ও কালু।

এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। প্রথমে জঙ্গিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করেছিল পুলিশ। ঘটনার তিনদিন পর ৮ জুন হাটহাজারী থেকে আবু নছর গুন্নু নামে মাজারের এক খাদেমকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১১ জুন নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শাহজামান রবিন নামে অপর একজনকে। মোবাইল ট্র্যাকিং ও ভিডিও ফুটেজে ঘটনাস্থলে তাদের থাকার তথ্য পেয়েই গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। কিন্তু ঘটনার ২১ দিন পর ওয়াসিম ও আনোয়ার নামে কিলিং মিশনের দুই সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর মিতুর কিলিং মিশনে অংশ নেয়া সবার নাম প্রকাশ পায়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকান্ডে অংশ নেয় সাতজন। এরা হলো মুছা, ওয়াসিম, নবী, আনোয়ার, রাশেদ, শাহজাহান ও কালু।

এছাড়া অস্ত্র সরবরাহ করে ভোলা। এদের মধ্যে ওয়াসিম, আনোয়ার, ভোলা ও শাহজাহান গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেছে পুলিশ জানায়।

এছাড়াও মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে দেয়ায় মুছার ভাই সাইদুল ও অস্ত্র জমা রাখায় ঠেলাগাড়ি চালক মনিরকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। নবী ও রাশেদ কথিত বন্দুক যুদ্ধে মারা গেছে। মুছার কোনো খোঁজ নেই। তাকে নিয়ে পুলিশ ও তার স্বজনদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। বাকি রয়েছে কালু। তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এমন দাবি পুলিশ কিংবা তার পরিবার কোনো পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫