Skip to content

গাজীপুর সিটি নির্বাচন > শেষ মুহুর্তে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাউন্সিলরদের ভোট প্রার্থনা

স্টাফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুর: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাধারন সদস্য পদে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা শেষ মুহুর্তে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা নাওয়া, খাওয়া ভুলে চোখের ঘুম হারাম করে নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের নানা উন্নয়নের গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের মন জয়ের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এসব ওয়ার্ডেও প্রত্যেকটিতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছেন। তবে বেশ কিছু ওয়ার্ডে দুই বা একাধিক প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। নগরীর ১৩ থেকে পর্যায়ক্রমে ১৮ নং ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনী মাঠের প্রার্থীদের অবস্থান সর্ম্পকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ওয়ার্ড নং ১৩
এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৬০৬ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৬টি। নগরীর লাঠিভাঙ্গা, ইটাাহাটা এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ডটি গঠিত।
এ ওয়ার্ডে মোট প্রার্থী রয়েছেন ৪জন। এরা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর খোরশেদ আলম সরকার (ঠেলাগাড়ি), তানভীর সিরাজ (টিফিন ক্যারিয়ার), ফাইজুল আলম দিলীপ (ঘুড়ি) ও আমিরুল ইসলাম (লাটিম)। প্রথমোক্ত তিন জনের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন। বর্তমান কাউন্সিলর প্রার্থী খোরশেদ আলম সরকার বলেন, আমি গতবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নে কাজ করেছি। এবারও নির্বাচিত হলে এলাকায় রাস্তাঘাটসহ নানাবিধ উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে সর্বদা সর্বশক্তি নিয়োগ করব। কাউন্সিলর প্রার্থী তানভীর সিরাজ বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এলাকায় মাদকমুক্ত করাসহ রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা সমস্যা দূরীভূত করব।
ওয়ার্ড নং ১৪
এ ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ১৫৫ জন। ভোট কেন্দ্র ৪টি। এ ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা ও রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। এ ওয়ার্ডে প্রার্থীর সংখ্যা ৫জন। এরা হলেন, বর্তমান কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান (লাটিম), মোঃ আব্দুল মজিদ বিত্রসসি (ঠেলাগাড়ি), নজরুল ইসলাম (ঘুড়ি) ও শোয়েব আল আসাদ (ট্রাক্টর)। স্থানীয় ভোটারদের মতে প্রথমোক্ত তিন প্রার্থীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লাড়াই হবে। বিশেষ করে বর্তমান কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ও আব্দুল মজিদ বিত্রসসির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এমনটিই মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
ওয়ার্ড নং ১৫
এ ওয়ার্ডের মোট ভোটাদের সংখ্যা ২০ হাজার ১৯১ জন। ভোট কেন্দ্র ৬টি। নগরীর শিল্প অধ্যুাষিত ভোগড়া এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ডটি গঠিত। এ ওয়ার্ডের সাধারন কাউািন্সলর পদে ৪জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। এরা হলেন, বর্তমান কাউন্সিলর ফয়সাল আহামেদ সরকার (লাটিম), আঃ হামিদ (ঘুড়ি), মোঃ আব্দুল সোবহান (টিফিন ক্যারিয়ার) ও আল আমিন (ঠেলাগাড়ি)। এ ৪জনের মধ্যে মূলত লড়াই হবে লাটিম ও ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে। প্রার্থী ফয়সাল সরকার বলেন, গত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকার ৩র্শ দরিদ্র লোকের জন্য বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করেছি। বিনা খঁরচে এ্যাম্বুলেন্স সুবিদা, কবরস্থানের ব্যবস্থাসহ এলাকায় নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এবার নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরাসনসহ কিছু রাস্তাঘাটের কাজ বাকী আছে সে গুলোর উন্নয়ন করব।
আব্দুল হামিদ বলেন, নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের নাগরিকদের সুযোগ সুবিদার জন্য কাজ করব। এছাড়া মাসে অন্তত একবার মাসে বিনামূল্যে দরিদ্র লোকদের জন্য চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করব।
ওয়ার্ড নং ১৬
এই ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৭১ জন। ভোট কেন্দ্র ৬টি। এ ওয়ার্ডটি বারবৈকা, দিঘীরচালা পালের পাড়া, আউটপাড়া ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত। এ ওয়ার্ডে মাত্র ২জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী মুসা (ঘুড়ি) ও হাজী সিদ্দিকুর রহমান (লাটিম)। এলাকাবাসী জানান, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
প্রার্থী মুসা চৌধুরী বলেন, নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে এলাকায় রাস্তাঘাটসহ আনুমানিক বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এবার নির্বাচিত হলে সিটি কর্তৃক বরাদ্দকৃুত বাজেট অনুযায়ী এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করব। কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় আমি নির্জস্ব অর্থায়নে এলাকায় মসজিদসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। অপর প্রার্থী হাজী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী। তাই নির্বাচিত হলে আমি তুলনামূলক ভাবে অন্যদের চেয়ে বেশী করে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারব।
ওয়ার্ড নং ১৭
এ ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার ৩১৭ জন। ভোট কেন্দ্র ৮টি। চান্দনা, মোগরখাল ও যোগিতলা নিয়ে এ ওয়ার্ডটি গঠিত। ৫জন কাউন্সিলর প্রার্থী এ ওয়ার্ডে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ন হয়েছেন। এরা হলেন হাজী রফিকুল ইসলাম (ঘুড়ি), বর্তমান কাউন্সিলর মেহেদী হাসান ফারুক (টিফিন ক্যারিয়ার), আবুল কাশেম (লাটিম), রফিকুল ইসলাম রাতা (করাত) ও আব্দুল হাকিম (ঠেলাগাড়ী)।
এলাকাবাসী জানান, প্রথমোক্ত ৪ প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এ ক্ষেত্রে ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থী প্রচারনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।
প্রার্থী হাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ডে পরিণত করার জন্য সকল নাগরীকদের সাথে নিয়ে কাজ করব। আমি নির্বাচিত হলে এলাকা মাদকমুক্ত করাসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। অপর প্রার্থী মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, এলাকার উন্নয়নে আমি অনেক কাজ করেছি। জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা পরিস্কারের ব্যবস্থা করেছি। এবার জয়ী হলে আরো ব্যপক আকারে উন্নয়ন কাজ হাতে নেব।
ওয়ার্ড নং ১৮
এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৯৪ জন। ভোট কেন্দ্র ৬টি। নলজানী, তেলিপাড়া, বাড়িয়ালী ও নগরপাড়া নিয়ে এ ওয়ার্ডটি গঠিত। এ ওয়ার্ডে মোট ৫জন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ সফর আলী (ঘুড়ি), মোঃ আব্দুল কাদির মন্ডল (ঠেলাগাড়ি), লতিফুর আলম টিপু (লাটিম), সাহাজ উদ্দিন সরকার (টিফিন ক্যারিয়ার) ও আতিক মাহমুদ (করাত)।
মূলত এ ৫ প্রার্থীর মধ্যে সফর আলী ও আব্দুল কাদির মন্ডলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে এলাকাবাসী ধারনা করছেন।
প্রার্থী সফর আলী বলেন, বিগত দিনে এলাকার মানুষের সেবায় কাজ করেছি। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছি। এবার নির্বাচিত হলে এল্কাার উন্নয়নে আরো বেশী আত্মনিয়োগ করব।
অপর প্রার্থী কাদির মন্ডল বলেন, এটি একটি গুরুর্ত্বপূর্ণ ওয়ার্ড। নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত ভাবে একে একটি আধুনিক ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করব। এলাকার রাস্তাঘাট ও গণ কবরস্থানসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করব।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫