বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী-গাজীপুর অংশে প্রয়োজনীয় পদচারী সেতু না থাকায় পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে রোড ডিভাইডারের ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
টঙ্গী-গাজীপুর সড়কে টঙ্গী ব্রিজ থেকে চৌরাস্তা পর্যস্ত মাত্র চারটি পদচারী সেতু রয়েছে। অবশিষ্ট সড়কে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য রোড ডিভাইডারের মাঝে অন্তত ৮২টি স্থানে ক্রসওয়াক রাখা হয়েছে। বড় ক্রসওয়াকে যানবাহন ও ছোট ক্রসওয়াক পথচারী পারাপারের জন্য নির্ধারিত থাকলেও চালকরা তা মানছে না।
টঙ্গী-গাজীপুর সড়কের এসব ক্রসওয়াক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ রাস্তা পারাপার হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্রসওয়াকের মাঝে কোনো প্রতিবন্ধক নেই। কোনো কোনো ক্রসওয়াকের মাঝে স্থাপন করা লোহার প্রতিবন্ধক কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। ফলে রিকশা, ভ্যানগাড়ি, ইজি বাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন সংক্ষেপে যাতায়াতের জন্য ছোট ক্রসওয়াক দিয়ে অবাধে পারাপার হচ্ছে। এ কারণে রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে পথচারীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
টঙ্গী প্রেস ক্লাব, গাসিক কার্যালয় মোড়, কলেজগেট ও সফিউদ্দিন একাডেমি মোড়ের গাড়ি পারাপারের বড় ক্রসওয়াক বিভিন্ন সময়ে বন্ধ রাখা হয়। তখন পথচারী পারাপারের ছোট কাঁটাগুলো (ক্রসওয়াক) পুরোপুরি যানবাহনের দখলে চলে যায়।
স্কুলের শিশু ও নারীরা মহাসড়কের মাঝে রোড ডিভাইডারের কাঁটা দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। তাদের ধাক্কা দিয়ে অথবা শরীর ঘেঁষে রিকশা ও ইজি বাইক পারাপার হয়। এ কারণে প্রতিদিন কেউ না কেউ আহত হয়।
সম্প্রতি রাফেজা আক্তার নামের এক নারী তাঁর আট বছরের শিশুকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। গাসিক টঙ্গী কার্যালয়ের সামনের ক্রসওয়াকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে একটি রিকশা তাঁকে ঠেলে রাস্তা পার হয়। এতে শাড়ি রিকশায় আটকে গেলে ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে রিকশাটি মহাসড়কের মাঝে নিয়ে যায়। এ সময় একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে ছুটে আসে। সেদিন অল্পের জন্য ওই নারী রক্ষা পান।
এ এলাকার স্কুলগামী শিশুরা প্রতিদিন ভোরে ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে মারাত্মক সমস্যায় পড়ছে। বেশির ভাগ ক্রসওয়াক বাস স্টপেজের বিপরীত দিকে হওয়ায় পারাপারের সময় যানবাহন দেখা যায় না।
সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী হুমায়রা আক্তার ও টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাত তানজিন বলে, ‘কলেজগেট, সফিউদ্দিন একাডেমি মোড় ও চেরাগ আলী মার্কেট বাস স্টপেজে সকাল সাড়ে ৬টায় হাজার হাজার শিশুশিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হয়। তাই এখানে ট্রাফিক পুলিশ থাকা দরকার এবং পারাপারের জন্য ছোট ক্রসওয়াকে রিকশা-ভ্যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা উচিত।’
গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিন রেজা বলেন, ‘ক্রসওয়াকে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে প্রতিবন্ধক তৈরি করা হয়েছিল। সেগুলো কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে।’
বিআরটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সানাউল হক বলেন, ‘এ প্রকল্পে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কাজ শেষ না হওয়ার আগে রোড ডিভাইডারের ক্রসওয়াক সংস্কার বা তাতে কোনো কাজ করার সুযোগ নেই।’
সূত্র: kalerkantho
