Skip to content

এবারও কী কথা রাখবে না সরকার?

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রদের আন্দোলনে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে ছাত্রদের এই দুটি আন্দোলনই সরকারকে বেকায়কায় ফেলে দিয়েছে।

বিশেষ করে কোটা সংস্কার আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তিতে অন্দোলন ছন্নছাড়া হয়ে যাওয়ায় সরকার তার কথা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে যা ঘটেছে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সাথে সরকার এমনটা করে কিনা দেখার বিষয়। যদি এমনটা ঘটে তাহলে আগামীর এই প্রজন্ম সরকারের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।

এদিকে গত ২৯ জুলাই ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ৪ দিন ধরে ৯ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে রাজধানীতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় গাড়ি ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেছে তারা। সরকার তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওযার ঘোষণাও দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রদের এই আন্দোলনের তোপের মুখে বুধবার (১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের সব দাবি যৌক্তিক। সরকার তাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে।’ তিনি জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৯ জুলাইয়ের ঘটনাটি দুঃখজনক। যারা এটি ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাবালে নূর পরিবহন দুটির ড্রাইভার ও হেলপারকে (চারজন) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গ্রেফতার করাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গাড়ি দুটির রেজিস্ট্রেশন ও রোড পারমিট বাতিল করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায় এ জন্য তদন্ত চলছে।’

অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষর্থীদের উপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন অনেকেই। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের তো আদর করে বোঝানো যেত! এই বাচ্চাদের মনের মধ্যে আপনাদের কি চেহারা তৈরি হচ্ছে বুঝতে পারছেন? কিছুদিন পরে আমরা কেউ থাকব না, কিন্তু এরা থাকবে। এরাই আগামীর বাংলাদেশ। দয়া করে একটু ভেবে দেখেন আগামী দিনের নাগরিকদের কিভাবে গড়ে তুলছেন।

আবার অনেকেই বলছেন, কোটা সংস্কার নিয়ে সরকার কথা রাখেনি। আন্দোলন দমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তখন তাদের দাবি মেনে নিয়েছিল। এখন সন্দেহ হচ্ছে ছাত্রদের এই আন্দোলনে সরকার যে শর্ত মেনে নিয়েছে, দুদিন পর যখন পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যাবে তখন সরকার তার কথা থেকে সরে আসে কিনা? যদি এমনটা হয় তাহলে সরকারের উপর সাধারন জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে!

ছাত্রদের দাবিগুলো হচ্ছে— ১. বেপরোয়া চালককে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে, ২. নৌপরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, ৩. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে, ৪. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে, ৫. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে, ৬. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে, ৭. শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, ৮. রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করতে হবে, ৯. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫