স্টাফ রিপোর্টার ॥
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে ভেতরে ভেতরে চলছে আসন বন্টন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজ। বিএনপি প্রধান কারাগারে থাকায় এ বিষয়ে চ’ড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে শরীক দলগুলোর মধ্যে যেসব নেতারা ভোট করতে পারেন তাদেরকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার এক ধরণের নির্দেশনা রয়েছে। যদিও বিএনপি বলছে খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন প্রধান লক্ষ্য। তাই এই মুর্হুতে শরীকদলগুলোর মধ্যে আগামী নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সম্ভব হচ্ছে না।
দলটির সিনিয়র এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া মুক্ত হলে সব সমস্যার সমাধান হবে। জোটের শরীকরা যাই বলুক না কেন আমাদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই। সময় হলে সব বিষয়ে পরিস্কার হয়ে যাবে। এছাড়া শরীকদলগুলোও বর্তমান অবস্থা তারাও বুঝছেন।
২০ দলীয় জোটের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিএনপির সঙ্গে শরিকদলগুলোর আসন ভাগাভাগির বিষয়টি একপ্রকার মিমাংসা হয়েছে। এবিষয়ে চ’ড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন জোট প্রধান খালেদা জিয়া। এজন্য তার কারামুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে শরীকদলগুলোকে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যদিও জোটের শরীকরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন ভাগা-ভাগির বিষয়টা যতো দ্রুত করবে শরিকদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টির সম্ভাবনা কম যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে বড় দল হিসেবে বিএনপি যদি ভুল করে জোট রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা মুক্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সিদ্ধান্ত নিতে চাই এবং নির্বাচনে যেতে চাই। ২০ দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগীর বিষয় নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তা ছাড়া নির্বাচনে আমরা যাব কি যাব না এ বিষয় সিদ্ধান্ত হয় নাই। আসন ভাগা-ভাগি নিয়ে আমাদের মধ্যে ঝামেলা নেই। সময় হলেই এ বিষয় নিয়ে আমরা বসবো।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাবো না এ বিষয়ে আমরা এখনো পর্যন্ত এক মত। তাই বেগম জিয়াকে নিয়েই আমাদের আসন বন্টন বা ভাগা ভাগির আলোচনা করতে চাই। আমাদের মাঝে আসন ভাগি কোন ঝামেলা নেই। অক্টোবরে নির্বাচনী তফসীল ঘোষণা হবে। আমরা চাইবো দেশে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্টিত হোক জনগণ যেন ভোট দিতে পারে।
বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, আসন ভাগা-ভাগির বিষয়ে বিএনপি কোন আগ্রহ দেখাচ্ছে না, নির্বাচন অতি নিকটে তাই বিএনপির উচিৎ হবে নির্বাচনের প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে জোটের সঙ্গে আলোচনা করা।
আসন ভাগা-ভাগির ফয়সালা যতো দ্রুত হবে হলে নির্বাচনে প্রস্তুতিটা ভালো হয়। এই বিষয় নিয়ে ভুলবুঝাবুঝির মাধ্যমে জোট ঐক্যবদ্ধতার বিষয়টা হারাতে পারে।
