বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলনে নেমেছিল তাদের সাথে সরকারের আচরণ খুব ভালো হয়নি। সরকার যে ভয়ঙ্কর স্বৈরতান্ত্রিক ভূমিকায় নেমেছে তাতে সরকারে ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে এতে কোন সন্দেহ নাই। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে আলাপকালে অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রথমে সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি মুখে মেনে নিয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও ব্যক্তিবর্গরাও বক্তব্য দিয়েছে যে এই আন্দোলন যৌক্তিক, আমরা এ থেকে শিক্ষা নিচ্ছি। কিন্তু, পরবর্তীতে পুলিশ তাদের উপর হামলা করলো, সাথে যোগ হলো হেলমেট, রাম দা, চাপাতি ইত্যাদি। সরকারের পক্ষে থেকে বলা হলো তারা বিএনপি জামায়তের লোক। কিন্তু তাদেরকে গ্রেফতারের কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো না। এই আন্দোলনের পরে সরকার আক্রোমনাত্মক হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন ধরণের প্রতিহিংসামূলক কর্মসুচি গ্রহণ করছে। পুলিশের গাড়ি উল্টো যায় শিক্ষার্থীরা আটকায়, মন্ত্রীর গাড়ি উল্টো যায় শিক্ষার্থীরা আটকায়। এতো সাহস তারা কোথায় পেল? এরকম একটি প্রশ্ন দেখা গেল তাদের আক্রমনের মাঝে। দেখা গেল পুলিশের ভূমিকা পালন করছে ছাত্রলীগের এবং ছাত্রলীগ ভুমিকা পালন করছে পোষাক ছাড়া পুলিশের। সম্মিলিতভাবে তারা আক্রমণ চালালো। তারা এখানেই ক্ষান্ত হয়নি। যাকে তাকে যেখানে সেখানে ধাওয়া করেছে। এমন কি শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়ার অপরাধে মা’কে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে সেখানে ধরপাকর ও ডিবি পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে রিমান্ড দেওয়া যদি সরকার বন্ধ না করে তবে সরকারের যে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে তা থেকে সরকার বের হতে পারবে না। অবিলম্বে এগুলো বন্ধ করে যাদেরকে আন্দোলনে থাকার অভিযোগ করে এবং আন্দোলনে যুক্ত হওয়াকে অপরাধ গণ্য করে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদেরকে মুক্তি দেওয়াই হল নিজেকে বাঁচাতে সরকারের জন্য একমাত্র পন্থা। আর ৫৭ ধারা, যে ধারা অনুযায়ী নির্যাতনের একটি স্ট্রিম রুলার চালানো হয়েছে এই ধারা বাতিল করতে হবে। কয়েকজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। জামিন দেওয়াটা একটা অপ্রাসঙ্গিক। কারণ, এখনো অনেকে গ্রেফতার আছে এবং রিমান্ডে নেওয়া সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গির তো কোন পরিবর্তন হয়নি। সরকারের এই ভূমিকা অপরিবর্তিত আছে। একজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হলো, তার পরিবারকে হয়রানি করা হলো। এক ধরনের ভয় ভীতি সৃষ্টি করা হলো। এই পরিস্থিতি সৃষ্টির দায় দায়িত্ব কে নিবে? জামিন দিলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয় না। একজনকে ধরে বিচারের আগেই যে অত্যাচার করা হয়, এটার দায় দায়িত্ব কে নিবে? শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে, তাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হয়েছে এটার ক্ষতিপুরণ কে দিবে? সাংবাদিকরা আহত হয়েছে, কয়েকজন সাংবাদিক যে পরিমান আহত হয়েছে তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারবে কিনা তার নিশ্চয়তা নাই। তাদের ক্ষতিপুরণ কে দিবে? যারা হেলমেট পরে হামলা করলো তাদেরকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীরা কিন্তু বিভিন্ন সময় বলেছে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারের কথার তো কোন গুরুত্ব নাই। সরকারে কথার গুরুত্ব আছে, মন্ত্রীর কথার গুরুত্ব আছে, এটা তো সরকার নিজেই মিথ্যা প্রমাণ করছে বার বার।
