Skip to content

শহিদুলের মুক্তির দাবি টিউলিপ সিদ্দিক জানাতেই পারেন, নিষ্পত্তি হবে অভ্যন্তরীণ আইনে

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তি জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের দাবির বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের ক’জন কেন্দ্রীয় নেতা ও দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। একদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ‘টিউলিপ সিদ্দিক এমন দাবি জানাতেই পারেন, কিন্তু বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনেই।’ অন্যদিকে দৈনিক নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবির তার ফেসবুক স্টাটাসে বলেছেন, শহিদুল আলমকে মুক্ত করার জন্য টিউলিপ সিদ্দিকের প্রকাশ্য অনুরোধ এই প্রখ্যাত আলোকচিত্রীর মুক্তির দাবিতে দেশের বুদ্ধিজীবীদের উচ্চকণ্ঠ হতে সাহস যোগাবে। গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী বলেছেন, আমি মনে করি যে, টিউলিপ সিদ্দিক শহীদুল আলমের যে মুক্তি চেয়েছেন, এটাকে সু-সংবাদ হিসেবেই দেখা উচিত।

এখানে রাজনীতি খোঁজে লাভ নেই। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’এ প্রকাশিত এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজের খালার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে কারাগারে শহীদুল আলমের আটক থাকা ‘খুবই বিরক্তিকর যা অবিলম্বে সমাপ্ত হওয়া উচিৎ’ বলে মনে করেন টিউলিপ সিদ্দিক। দ্য টাইমস বলছে, শহীদুল আলমকে আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নিন্দার ক্রমবর্ধমান তালিকায় যুক্ত হলেন টিউলিপ সিদ্দিক। ইতোপূর্বে তার কারামুক্তির আহ্বান জানানো ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন নোবেল বিজয়ী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেত্রী, শিল্পী, লেখক এবং ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। প্রতিবেদনে বলা হয় টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, বাংলাদেশকে তার নিজের নাগরিকদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক মানদ- মেনে চলতে হবে। আশা করি আমাদের পররাষ্ট্র দফতর বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কাছে এ ব্যাপারে দৃঢ় বার্তা পাঠাবে।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিবৃতির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেসব অভিযোগ পেয়েছে তা আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে। আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে সরকার তাকে ছেড়ে দিতে পারবে না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু বিশ্বসভার সদস্য। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে বা তাদের অন্যান্য কমিটমেন্ট বা এ্যাটাসমেন্টের কারনে অবস্থাভেদে বিভিন্ন সময়ে কথা বলে থাকেন। কিন্তু তারা যাই বলে থাকুন না কেনো বাংলাদেশ সরকার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী তদন্ত করে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী সেই বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক শহিদুল আলমের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তার জায়গা থেকে।

তিনি বলেন, শহিদুল আলমকে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে আদালতের উপর। সরকার ইচ্ছে করলেই যে কাউকে ছেড়ে দিতে পারেনা। গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী আমাদের প্রতিবেদক আশিক রহমানকে এ বিষয়ে বলেন, আমরা কেনো এতো গুরুত্ব দিচ্ছি, টিউলিপ সিদ্দিকর এ মুক্তির দাবিকে? কারণ তিনি একজন ব্রিটিশ এমপি, হয়তো তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে। শহীদুল আলমকে ছেড়ে দেওয়া সরকারের জন্য ভালো হবে। আমি মনে করি যে, টিউলিপ সিদ্দিক শহীদুল আলমের যে মুক্তি চেয়েছেন, এটাকে সু-সংবাদ হিসেবেই দেখা উচিত। এখানে রাজনীতি খোঁজে লাভ নেই।

নিরাপত্তা সম্পর্ক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) আবদুর রশিদ আমাদের প্রতিবেদক আশিক রহমানকে বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন সম্মানিত সদস্য। যেহেতেু তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, স্বভাবতই, অন্যান্য পার্লামেন্ট মেম্বাররা তাকে শহিদুল আলমের ব্যাপারে জানতে চেয়েছে। বিভিন্ন প্রশ্ন পশ্চিমা বিশ্বের পার্লামেন্টারিয়ানের প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার চেয়ে, তাঁকে ছেড়ে দিলে যেহেতু তিনি পরবর্তীতে পানি ঘোলা করতে পারবেন না, সে কৌশলগত কারণেই হয়তো টিউলিপ সিদ্দিক শহীদুল আলমের মুক্তি চেয়েছেন।
দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী আমাদের প্রতিবেদক মোহাম্মদ আব্দুল অদুদকে বলেছেন, টিউলিপ সিদ্দিক এটা ভাবেননি যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার খালা কি-না। তিনি ¯্রফে তার দায়িত্ব পালন করেছেন বলে আমি মনে করি।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫