Skip to content

গাজীপুর ও নরসিংদীতে শিল্প-কারখানার অনুমতি বন্ধ

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
গাজীপুর মহানগর ও নরসিংদীতে নতুন করে আর শিল্প-কারখানা গড়ার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন থেকে নতুন শিল্প কল-কারখানা অর্থনৈতিক জোন এলাকায় গড়তে হবে।

বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীসহ ঢাকার চারপাশে নদীগুলোর দূষণরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত ‘টাস্কফোর্স’ এর ৩৮তম সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রী ও টাস্কফোর্সের সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত এবং বিধি-নিষেধের কথাও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর সীমানা জটিলতা নিরসনে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, গাজীপুর মহানগর ও নরসিংদীতে নতুন করে আর শিল্প-কলকারখানা গড়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না। নতুন শিল্প-কলকারখানা অর্থনৈতিক জোন এলাকায় গড়তে হবে। স্লোব করে নদী তীর বা খাল পাড় বাঁধাই করা যাবে না। খাড়া (সোজাসুজি) করে তীর বাঁধাই করতে হবে যাতে সেগুলো দখল হতে না পারে। প্রয়োজনে ওয়াকওয়ের সাথে ড্রাইভওয়ে নির্মাণ করতে হবে।

এছাড়া সভায় নদীর সীমানা জটিলতা নিরসনকল্পে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করবে। নদী তীর দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষাকল্পে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় জানানো হয়, ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং উচ্ছেদকৃত জায়গা যাতে পুনঃরায় দখল হয়ে না যায় সেজন্য উল্লেখিত নদীগুলোর উভয়পাশে ২২০ কিলোমিটার ‘ওয়াকওয়ে’ নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মিত হয়েছে। ৫ অক্টোবর আশুলিয়াতে ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। বাকি ১৫০ কিলোমিটার ‘ওয়াকওয়ে’ নির্মাণ কাজের প্রকল্প গ্রহণের স্টাডি চলমান রয়েছে। নদী তীরে বনায়ন ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার শ্যামপুর ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে দুটি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। আশুলিয়া, সিন্নিরটেক ও টঙ্গিতে আরো ৩টি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হবে।

সভায় আরো জানানো হয়, নদীর তীরের সীমানা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ৯ হাজার ৫৭৭টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৫৬টি পিলার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিতর্কিত ১ হাজার ৭৫১ টি পিলারের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে বিতর্কিত ২ হাজার ১০৫টি পিলারের নিষ্পত্তি করা হবে। নতুন করে ১০ হাজার ৪০০ সীমানা পিলার স্থাপন করা হবে। নতুন সীমানা পিলারগুলো বড় ও দৃশ্যমান করে নির্মাণ করা হবে। বিআইডব্লিউটিএ নতুন করে ১৯টি আরসিসি জেটি নির্মাণ করবে।

বিআইডব্লিউটিএ নদী তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৫০১.২৬ একর জমি উদ্ধার করেছে বলেও সভায় জানানো হয়। এর মধ্যে ঢাকার চারপাশে ৩০৭.২৬ একর এবং নারায়ণগঞ্জে ১৯৪ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ৯ হাজার ৭৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৬ হাজার ৯৫১টি এবং নারায়ণগঞ্জে ২ হাজার ৭৭৯টি উচ্ছেদ করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ঢাকা শহরের ৪৬টি খালের মধ্যে ২৬টি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি খালের সংস্কার কাজ চলছে। নতুন করে খাল যাতে দখল হয়ে না যায় সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাভারস্থ ট্যানারি শিল্প এলাকায় কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধানাগার স্থাপন যথাযথ হয়নি। এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় আরো জানানো হয়, পরিবেশ অধিদপ্তর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে ১৫৪ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে। নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সিমেন্ট কারখানা স্থাপন করায় নদী তীর যাতে দখল ও দূষণ না হয় সেজন্য উক্ত এলাকার শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাথে সভা করতে হবে। নদী তীর দখল ও দূষণরোধে জেলা-প্রশাসকদের নিয়মিত মনিটরিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমাবেশ করতে হবে।

বৈঠকে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহাদৎ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: রাইজিংবিডি

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫