Skip to content

এবার গাঁজা কেনা-বেচায় বৈধতা দিল কানাডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
এবার গাঁজা কেনা-বেচায় বৈধতা দিল কানাডা। এর আগে গাজা কেনা বেচা ও সেবনে বৈধতা দিয়েছিল উরুগুয়ে। স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাত ২টা ৩০ মিনিটে দেশটির নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপে প্রথম বৈধ উপায়ে গাজা বিক্রি হয়েছে। ওই দ্বীপে গাজা কেনার জন্য গাজা বিক্রির দোকানগুলোতে শত শত মানুষ ভিড় জমায়।

কানাডায় ২০১১ সাল থেকেই চিকিৎসায় ওষুধ হিসেবে গাঁজার ব্যবহার বৈধ হয়েছে। তবে গাঁজার ব্যবহার বৈধ হলেও, এ নিয়ে উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটিতে মাদকাসক্ত হয়ে গাড়ি চালানোর ব্যাপারে প্রস্তুত থাকছে পুলিশ।

কানাডার প্রায় দেড় কোটি বাড়িতে গাঁজা বৈধ হওয়ার নতুন আইনের বিষয়ে তথ্য জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

গত কয়েক মাস ধরেই গাঁজার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ এবং পৌরসভার লোকজন। স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব, আইন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দীর্ঘদিন ধরেই গাজা কেনা-বেচা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

তবে পর্তুগাল এবং নেদারল্যান্ডস এটিকে অপরাধমূলক ড্রাগ নয় বলে আগেই স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন কানাডার প্রদেশ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্ব থাকবে কোন স্থান থেকে গাঁজা কেনা যাবে এবং গ্রহণ করা যাবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর দল লিবারেল পার্টি ২০১৫ সালে যে প্রচারণা চালিয়েছিল সেটাই পরিপূর্ণতা পেল গাঁজা বৈধকরণের মধ্যে দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী জোড় দিয়েই বলেছিলেন কানাডা হল বিশ্বের মধ্যে অন্যতম একটি দেশ যেখানে সবচেয়ে বেশি গাঁজা গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু এখানে শত বছরের পুরনো আইন বহাল আছে যেখানে এটাকে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে ধরা হয়। তিনি বলেন, নতুন এই আইন এমন ভাবে করা হয়েছে যাতে করে সেটা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হাতের নাগালের বাইরে থাকে।
একই সাথে অপরাধীদের কাছ থেকে লভ্যাংশ বের করে আনা যাবে। ফেডারেল সরকার ধারণা করছে গাঁজা বিক্রির মাধ্যমে বছরে চার’শ মিলিয়ন ডলার ট্যাক্স রেভিনিউ বাড়বে। প্রাপ্ত বয়স্করা গাঁজা থেকে তৈরি তেল, বীজ, গাছ এবং শুকনো পাতা কিনতে পারবেন লাইসেন্স করা কোন উৎপাদক এবং বিক্রেতার কাছ থেকে।

প্রকাশ্যে একজনের কাছে ৩০ গ্রামের বেশি গাঁজা থাকতে পারবে না। একজন ব্যক্তি তার বাড়ীতে চারটির বেশি গাঁজার গাছ লাগাতে পারবেন না। লাইসেন্স নেই এমন ডিলারের কাছ থেকে গাঁজা কেনা যাবে না। গাঁজা মিশ্রিত খাবার এখনি অবশ্য পাওয়া যাবে না। এটার জন্য একটি বিল পাশ করতে হবে এবং এক বছরের মধ্যেই এটা হতে পারে।

একটু দেরি করা হচ্ছে এই কারণে যাতে করে সরকার সুনির্দিষ্টভাবে এই পণ্য সম্পর্কে নিয়মকানুন তৈরি করতে পারে।

যদি কেউ অপ্রাপ্ত বয়স্ক কারো কাছে গাঁজা বিক্রি করে তবে তার ১৪ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। তবে শাস্তির এই মাত্রা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলম্বিয়া, বিশেষভাবে তৃতীয় বৃহত্তম শহর ভ্যাঙ্কুভারে গাঁজা ব্যবহারের চল রয়েছে বহুদিন ধরেই। ভ্যাঙ্কুভারকে বলা হয় কানাডার গাঁজার রাজধানী। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাঁজার ফার্মও রয়েছে এই শহর থেকে সামান্য দূরে ফ্রেজার ভ্যালিতে। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের কাছাকাছি এটি অবস্থিত।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫