স্টাফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুর: বাংলাদেশ ১৬-২০তম গ্রেড সরকারী কর্মচারী সমিতি গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি হেলাল উদ্দিনকে (৫৬) কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় হেলাল উদ্দিনকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর মাথা, পিঠ ও বুকে কোপ লেগেছে। পুকুর থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে তাঁর উপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেনসহ আরো তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহত দেলোয়ার হোসেন জানান, গাজীপুরের শ্রীপুরের মাইজপাড়া এলাকায় একটি খাস পুকুর (কমলা পুকুর) এক বছর আগে ইজারা নিয়ে দেলোয়ার মাছ চাষ করেন। গত শুক্রবার পুকুরে মাছ চাষ করতে গেলে ওই এলাকার আনোয়ার হোসেন উজ্জল ও তার ভাই ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে ৮-৯জন সন্ত্রাসী দা, লাঠি নিয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা করে। তার ডাক-চিৎকারে বড় ভাই হেলাল উদ্দিন রক্ষা করতে গেলে সন্ত্রাসীরা তার ভাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এ সময় মাছের খাদ্য বিক্রেতা কাওসার মোড়ল ও জামাল উদ্দিন তার ভাইকে রক্ষা করতে গেলে তাদের উপরও হামলা হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা প্রায় সোয়া দুই লাখ টাকার মাছ, ৭০ হাজার টাকা মূল্যের জাল এবং দুই ভাইয়ের কাছে থাকা মাছ বিক্রির ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা হেলাল উদ্দিনসহ তাদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গত শনিবার এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে শ্রীপুর থানায় ৯জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। কিন্তু পুলিশ কোন আসামিকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস জানান, হেলাল উদ্দিনের মাথায় তিনটি ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে। সেখানে ১৬টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়ার তার বুক ও পিঠে কোপ ও লাঠির আঘাত রয়েছে।
বাংলাদেশ ১৬-২০তম গ্রেড সরকারী কর্মচারী সমিতি গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশকে জানানো হলেও গ্রেফতার করছে না। বিষয়টি তারা জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে কর্মসূচী দেয়া হবে।
