কালীগঞ্জ ব্যুরো ॥
গাজীপুর: কালীগঞ্জে স্বামীর বাড়ির লোকজনের সাথে অভিমান করে এক সন্তানের জননী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামে শনিবার ভোরে গৃহবধূর বাপের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত গৃহবধূ সুস্মিতা রানী মজুমদার (২৪)। সে দক্ষিণবাগ গ্রামের মৃত ধীরেন্দ্র মজুমদারের কন্যা। আজ শনিবার সকালে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দন দে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকার নুপুর চন্দ্র দাসের সাথে বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামের মৃত ধীরেন্দ্র মজুমদারের মেয়ে সুম্মিতা রানী মজুমদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামীর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য সুম্মিতাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় সময়ই সুম্মিতাকে তার বাপের বাড়িতে চলে আসে। স্বামীর বাড়ির লোকজনের মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শনিবার ভোরে অভিমান করে বাপের বাড়িতে ঘরের আড়ের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যা করে।
এদিকে প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে নিহতের শ্বশুর বাড়ির লোকজনসহ তার শাশুড়ি রুমা রানী দাস বলেন, তিন মাস পূর্বে সিজারের মাধ্যমে সুম্মিতা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তারপর থেকে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে সে। তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ধারণা, এ কারণে সে আত্মহত্যা করে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দন দে বলেন, শনিবার সকালে সংবাদ পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।
