বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের পুনর্র্নিবাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
রোববার (২২ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটিতে এখন অর্গানাইজিং সেক্রেটারি, ধর্ম সম্পাদক, শিল্প-বাণিজ্য, কোষাধ্যক্ষ, অর্থ সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক- এ কয়টি পদ রয়েছে। আর নিচের দিকে পুরো ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণার বাকি। পুরোটা ঘোষণা হলে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেয়ে যাবেন।
‘আগামী মঙ্গলবারে আমাদের প্রেসিডিয়াম মিটিং আছে, এরমধ্যে একটা খসড়া প্রস্তাব এবং প্রেসিডিয়ামে আলাপ-আলোচনার পর সেদিনই আশা করছি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘দলে কিছু কিছু দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে গতিশিলতা আনার জন্য। গত তিন বছরে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের মধ্যে নন পারফর্মার কেউ ছিল না, তাই কাউকে বাদ দেয়াটা ছিলো ডিফিকাল্ট। পুরো কমিটি ঘোষণার আগে এ বিষয়ে সার্বিক মূল্যায়ন ঠিক হবে না।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা ঘোষিত কমিটিতে নেই তাদের কেউ কেউ ওয়ার্কিং কমিটিতে স্থানও পেতে পারে। ডিপার্টমেন্টাল দায়িত্ব থেকে অনেককেই দূরে রেখেছেন। এটা যার নেতৃত্বে পার্টি চলে তার কিছু একটা স্ট্র্যাটেজি অবশ্যই রয়েছে। তিনি নয় বারের মত প্রেডিসেন্ট হয়েছেন। আর অভিজ্ঞতা ৩৮ বছরের।’
কাদের বলেন, ‘যখন তিনি এলেন তখন কলহে জর্জরিত একটি দল। দলের লোকেরাও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। আমাদের নেতাদের মধ্যে হতাশা ছিল। প্রতিপক্ষ দল বলেছিল ১০০ বছরেও আমরা ক্ষমতায় আসতে পারবো না। সেখানে শেখ হাসিনা এসে দু:সাধ্য সাধন করলেন। এ পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করা ছিল খুব চ্যালেঞ্জ।’
তিনি বলেন, ‘তারপর অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে উদ্ধার করলেন। জিয়ালিজমের সঙ্গে আইডিয়লিজ, ফেইতের সঙ্গে মর্ডালিটির একটা সুন্দর ব্যালেন্স তিনি করেছেন। এখানেও আপনারা অনেক চমক দেখেছেন।’
‘সাবের হোসেন চৌধুরীকে আমরা মনোনয়ন দিয়েছি। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু নির্বাচনে জেতার জন্য তখন তাকেই যোগ্য প্রার্থী বিবেচনা করা হয়েছিলো। তারপর লালবাগে হাজি সেলিমকে আমরা প্রার্থী করেছি। এভাবে মনোনয়নেও আমাদের কিছু স্ট্র্যাজেটিক পরিবর্তন হয়েছে। তারপর সরকার গঠনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে একটা অ্যালায়েন্স করতে হয়েছে। সামান্য শর্ট ছিল, সেটাকে ওভারকাম করার জন্য এটা করতে হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ আদর্শের দিক থেকে এক চুলও সরেনি। তবে সময়ের প্রয়োজনে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে, বাস্তবতার প্রয়োজনে।’
