Skip to content

পুলিশের সর্ব্বোচ পদক পিপিএম পেলেন দুর্ঘটনা থেকে বাঁচানো সেই সাহসী ওসি

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
গত বছরের নভেম্বরে খাদে পড়ে ডুবে যাওয়া বাসযাত্রীদের উদ্ধার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসিত হয়েছিলেন শরিয়তপুরের ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান।

সেদিন সকাল সোয়া ৯টার দিকে ডামুড্যা-শরীয়তপুর সড়কের খেজুরতলা এলাকায় অন্তত ৩০ জন যাত্রী নিয়ে বাস খাদে পড়ে যায়।

দমকল বাহিনী আসার অপেক্ষা না করে নিজেই সেই খাদের পানিতে ডুব দিয়ে গাড়ির ভেতর আটকা পড়া ছয় নারীসহ অন্তত পক্ষে ১৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেন ওসি মেহেদী হাসান।

সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সেই ওসিকে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পিপিএম (সেবা) পদক প্রদান করা হয়েছে।

রোববার পুলিশ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পিপিএম ব্যাচ পরিয়ে দেন।

তার পিপিএম পদক পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. মোহাইমিনুল ইসলাম।

পদক প্রাপ্তির পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে ওসি মেহিদী হাসান বলেন, ‘ওটা আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল। দুর্ঘটানাকবলিত মানুষকে বাঁচাতে এগিয়ে আসাই পুলিশের কাজ। সে দিন এই বিশ্বাস থেকেই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আজ সেই কারণেই আমাকে পিপিএম পদকে ভূষিত করা হলো।’

যতদিন পুলিশ বিভাগে থাকবেন এভাবেই মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ওসি মেহেদী হাসান।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওসি মেহেদী হাসানের পিপিএম (সেবা) পদকপ্রাপ্তিতে শরীয়তপুরবাসী উচ্ছ্বসিত। বিষয়টি জেলা পুলিশ বিভাগের জন্য গর্বের বিষয়।’

জানা গেছে, ওসি মেহেদী হাসানের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার বেজপাড়া মেইনরোড গ্রামে। ১৯৯৬ সালে ১ জানুয়ারি সাব-ইন্সপেক্টর পদে প্রথম পিরোজপুর মটবাড়িয়া থানায় যোগদান করেন তিনি।

পরে ১৯৯৮ সালে ডিএমপিতে, ২০১০ সালে পদোন্নতি পেয়ে ওসি (তদন্ত) পদে মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান থানা, ২০১৩ দিনাজপুর খানসামা থানা এবং ২০১৫ মাদারীপুরের রাজৈর থানায় যোগদান করেন।

২০১৬ সালের ৮ আগস্ট পদোন্নতি পেয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানায় যোগদান করেন। ২০১৯ সাল থেকে ডামুড্যা থানায় ওসি পদে কর্মরত আছেন মেহেদী হানসান। প্রসঙ্গত ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বরের ওই সড়ক দুর্ঘটনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্তত ১০-১৫ জনকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করেন ওসি মেহেদী হাসান। এ বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমের মত দৈনিক বাংলাভূমিতেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ঘটনার বিবৃতি দিয়ে সেদিন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ডামুড্যা উপজেলা শাখার সহসভাপতি মোহাম্মদ নান্নু মৃধা বলেছিলেন, গাড়িটি খাদে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের ওসি মেহেদী হাসান দ্রুত লাফিয়ে পড়েন পানিতে। তিনি প্রথমে গাড়ির জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে দেন। যাতে করে ভেতরে আটকেপড়া যাত্রীরা সহজে বের হতে পারে। পানির নিচে গাড়ির ভেতর থেকে বের করে আনেন অনেক যাত্রীকে। তার সাহসী পদক্ষেপের কারণে রক্ষা পায় বহু প্রাণ। তার এ বীরত্বের জন্য উপস্থিত হাজারও মানুষ তাকে এবং পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫