ইব্রাহিম খন্দকার
কালীগঞ্জ ব্যুরো ॥
গাজীপুর: কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভাঙচুরের ঘটনায় দেড় ঘন্টা কর্মবিরতি রেখে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দরা।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা হতে ১১টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশ পথের সামনে নিরাপদ কর্মস্থল এবং রোগীদের সেবা প্রদানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের দাবিতে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
শুধু জরুরি বিভাগ চালু রেখে অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকরা মানববন্ধনে অংশ নেয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সেবা নিতে আসা রোগীরা। এ সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসকদের হাসপাতালে না পেয়ে অনেক রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে হাসপাতাল হতে চলে যায়। মানববন্ধন শেষে দেড় ঘন্টা পর অপেক্ষামান রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সাত জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০/১২জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সঞ্জয় দত্ত।
পরে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপির নির্দেশে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশকে সভাপতি ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জুবের আলমকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ছাদেকুর রহমান আকন্দ জানান, হাসপাতালে হামলাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক। তিনি বলেন, রাতে বড়নগর এলাকায় পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকারী কাউকে পাওয়া যায়নি। আসামিরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল থেকে সুচিকিৎসা না পেয়ে মো. মোবারক হোসেন (৩০) নামে এক রোগি নিহত হওয়ার অভিযোগে দুপুরে হাসপাতালে এসে ভাঙচুর রোগীর স্বজনরা।
