জাহিদ আহসান
শিক্ষানবিস রিপোর্টার ॥
গাজীপুর: শ্রীপুরে টেস্টার চেয়ে না পাওয়ায় তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রের বাম চোখ কানা (ফুটো) করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ।ঘটনাটি গত ২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লোহাগাছ এলাকার। এ ব্যাপারে শিশুটির মা শিল্পী আক্তার বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা {নং- ৫৪, তাং ২১/০১/২০২০} দায়ের করেন।

জানা যায়, অঙ্গহানি হওয়া রবিন (১১) গাজীপুর শ্রীপুর উপজেলা লোহাগাছ এলাকার মোঃ ইকবাল হোসেন ও মোছা: শিল্পী আক্তারের একমাত্র পুত্র। গত ১ জানুয়ারি (বুধবার) একই এলাকার কফিল উদ্দিনের ছেলে মো. রুমান (১৮) বাদী শিল্পী আক্তারের বাড়িতে এসে নাট খোলার জন্য টেস্টার চায়। বাড়িতে টেস্টার না থাকায় রুমানকে বলে দেয় টেস্টার নাই। তখন রুমান শিল্পী আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়। পরদিন ২ জানুয়ারি রবিন তার বাড়ির উত্তর পাশে খেলাধুলা করছিল, তখন রুমান তার ভাই মোঃ রুবেল ও বাবা মোঃ কফিলের প্ররোচনায় রবিনকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মোটর সাইকেলের উপর ফেলে দেয়। এতে রবিনের চোখ মোটর সাইকেলের এক্সেলেটরের অংশে ধাক্কা খায়, ফলে রবিনের বাম চোখের মনি কেটে যায় এবং রক্তপাত হতে থাকে। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকার শেরে বাংলানগরের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রেরণ করে। ওই হাসপাতালে বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার জানান, রবিনের বাম চোখ অকেজো হয়ে গেছে।
জানা যায়, ঘটনার পর এলাকার ৪০ থেকে ৫০ জন গন্যমান্য ব্যক্তি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শালিস বসে। সেখানে শালিসিয়ানরা রুমানের চিকিৎসার ব্যয় বাবদ ২০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন। কিন্তু রুমান বিচার না মেনে পাল্টা হুমকি ও দমকির হুংকার দেয়।
পরবর্তীতে রবিনের বাবা কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে শ্রীপুর থানার ওসির বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশ মামলাটি এন্ট্রি করতে গড়িমসি করলে নিরূপায় হয়ে রবিনের মা গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সুপার বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত মামলা নেয়ার জন্যে শ্রীপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পুলিশের সুপারের নির্দেশ মোতাবেক মামলাটি এন্ট্রি হওয়ার পর পুলিশ ৩নং আসামী মোঃ রুবেলকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আশীষ কুমার দাস বলেন, ৩নং আসামি রুবেলকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ২নং আসামি মোঃ কফিল জামিন প্রাপ্ত হন এবং ১নং আসামি রুমান পলাতক রয়েছে।
এদিকে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাদির বলেন, একমাত্র ৩নং আসামি আদালত থেকে জামিনে আছেন।
এখানে পুলিশ ও আইনজীবীর বক্তব্যে যথেষ্ট গড়মিল রয়েছে। গড়মিলের বিষয়টি পুলিশ কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখার দরকার।
রবিনের মা শিল্পী আক্তার বলেন, আমার একটি মাত্র ছেলে। এই ছেলেকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন, অথচ তার একটি চোখই নস্ট করে দেয় সন্ত্রাসী রুমান। আমি এর সঠিক বিচার চাই এবং আমার ছেলের নতুন চোখ প্রতিস্থাপনের জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। আমি সমাজের বিত্তবানদের নিকট আর্থিক সহযোগীতা চাই। তারা যেন আমাদের এই বিপন্ন মুহূর্তে ইসলামী ব্যাংক, বোর্ডবাজার শাখা, গাজীপুর মহানগর, হিসাব নং ১২৯১৮ এবং বিকাশ নম্বর ০১৮৭১০৩৬৮৮৭ তে অর্থ দিয়ে সহযোগীতা করেন।
