আজগর পাঠান
কালীগঞ্জ ব্যুরো ॥
গাজীপুর: কালীগঞ্জ থানাধীন নাগরী ইউনিয়নের তিরিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে অবৈধ শুকরের খামার। আর এই খামারের ময়লা-আবর্জনার মাধ্যমে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণকারী এই খামারের মালিক তিরিয়া গ্রামের প্রয়াত জন রোজারিওর পুত্র সজল রোজারিও।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় খামারের শুকর গুলোকে বাসি-পঁচা ও বিভিন্ন নোংরা দুর্ঘন্ধযুক্ত উচ্ছিষ্ট খাবার খাওয়ানো হয়। যা থেকে শুকরের বিভিন্ন জটিল রোগ পর্যন্ত হতে পারে।এই শুকরের মাংস কালীগঞ্জ উপজেলার খ্রিস্টান-অধ্যুষিত এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন এলাকাতে বাজারজাত ও বিক্রয় করা হয়। যা সাধারণ মানুষ অর্থাৎ যারা শুকরের মাংস খায় তারা না যেনে শুকরের মাংসের নামে এক প্রকার বিষ কিনে খাচ্ছে।এই শুকর জবাই করা হয় অসাস্থ্যকর পরিবেশে। এর বিষ্ঠা মল-মূত্র ফেলা হয় খামারের সাথে অবস্থিত একটি পুকুরে যা থেকে প্রচুর পরিমাণে দুর্ঘন্ধ হচ্ছে একই সাথে মাটি, পানি, বায়ু ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আবার পুকুরের এই ময়লা দূষিত পঁচা পানিতে নিষিদ্ধ অষ্ট্রেলিয়ান রাক্ষুসে মাগুর মাছের চাষও করা হচ্ছে। আর এই মাছ ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হচ্ছে। এখানে খামারের পাশে নাগরী টু তুমিলিয়া মাদার তেরেসা নামক রাস্তা দিয়ে যেসব পথচারী চলাচল করে এবং তিরিয়া গ্রামে বসবাসকারী লোকজনদের, এই দূষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে।

সজল রোজারিওর কাছে তার ব্যাবসার বৈধ কাগজপত্র এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়াপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, খামারের মালিক সজলকে পঁচা দুর্ঘন্ধ নিরসনের ব্যাপারে অনেক বার বলা হয়েছে কিন্তু সে কোন বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই পরিবেশ দূষিত করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার (ওসি) এ.কে.এম মিজানুল হকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ ব্যাপারে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি প্রশাসনকে অবগত করার জন্য সাংবাদিকদের তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। একই সাথে তিনি বলেছেন, যেহেতু এটি একটি পরিবেশ দূষণের ঘটনা তাই বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবগত করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করবেন।
