Skip to content

কানামাছি

অনলাইন ডেস্ক ॥
তিনটি বাঘ ছিল বনে। খুব ভালো বন্ধু ওরা। একদিন ওরা ঠিক করল, হরিণদের রেস্তোরাঁয় গিয়ে দুপুরের খাবার খাবে। ওই রেস্তোরাঁর খাবারের খুব সুনাম। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ছুটির এক দিনে তিন বন্ধু গেল বনের নামকরা ওই রেস্তোরাঁয়। সঙ্গে নিল ৫০০ কাঁঠালপাতা। বনে কাঁঠালপাতা হলো টাকা।

রেস্তোরাঁটি ছিল অনেক দূরে। বনের শেষ প্রান্তে। তিন বন্ধু সেখানে যেতে যেতে ১০০ টাকা খরচ হয়ে গেল। বাকি রইল ৪০০ টাকা। রেস্তোরাঁয় গিয়ে অনেক কিছু অর্ডার করল তিন বাঘ। খেলও একদম পেট পুরে।

তারপর একটা বেয়ারা হরিণ বিল নিয়ে এল। বিল দেখে তো তিন বাঘের আক্কেলগুড়ুম! বিল এসেছে ৬০০ টাকা! এবার তারা কী করবে বুঝতে পারছে না। হঠাৎ ওদের মাথায় একটা বুদ্ধি এল। বেয়ারা হরিণকে বোকা বানানোর বুদ্ধি।

সবচেয়ে চালাক বাঘটা বলল, ‘বিলটা আজকে আমেই দেব।’

দ্বিতীয় বাঘটি বলল, ‘না না, আমি দেব।’

তৃতীয় বাঘটিও একই কথা বলল, ‘আরে, রাখ না তোরা, বিল আমিই দেব।’

রেস্তোরাঁর বেয়ারা হরিণ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল তিন বাঘের কাণ্ড দেখে। ওর দিকে তাকিয়ে প্রথম বাঘ বলল, ‘আচ্ছা, আমরা তোমার
চোখ বেঁধে দিই? তারপর তুমি যাকে ধরবে সে-ই বিল দেবে।’

হরিণ বেচারা রাজি হয়ে গেল। যেমন কথা তেমন কাজ। তিন বাঘ বেয়ারা হরিণের চোখ বেঁধে দিল। এখন হরিণ এখান থেকে ওখানে গিয়ে ধাক্কা খায়। ওখান থেকে সেখানে ধাক্কা খায়। কিন্তু কোনো বাঘকেই যে ছুঁতে পারে না!

পারবে কী করে? ততক্ষণে তিনটি বাঘই যে পালিয়ে গেছে! এত আওয়াজ শুনে শেষমেশ রেস্তোরাঁর মালিক এসে বেয়ারা হরিণের চোখ খুলে দিল। জিজ্ঞেস করল, ‘এত আওয়াজ করছ কেন? আর তোমার চোখই–বা বাঁধা কেন?’

বেয়ারা হরিণ আমতা আমতা করে সব খুলে বলল। সব শুনে মালিক হরিণ হাসতে হাসতে গড়াগড়ি, ‘আরে, বাঘগুলো তোমাকে কানামাছি খেলতে বলল আর তুমি তাদের কথায় কান দিলে! বোকা কোথাকার! হা হা হা।’

  • আজিম আহমেদ, ষষ্ঠ শ্রেণি, কুমিল্লা জিলা স্কুল, কুমিল্লা

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫