স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভয়াবহ বন্যা, নদীভাঙ্গন আর প্রবল স্রোতের কারণে দিনে দিনে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে পদ্মা। পানির মধ্যে ভেসে আছে মাদারীপুরের আশয়কেন্দ্র, সেখানেই ঠাঁই নিচ্ছেন শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলের বানভাসিরা।
পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৮ হাজার পরিবার আর ভেসে আছে ‘শিক্ষার একমাত্র বাতিঘর’ খ্যাত নুরুদ্দিন মাদবর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩ তলা ভবন, প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন, একটি বাজারসহ বিস্তীর্ণ জনপদ।
প্রায় চার শতাধিক ঘরবাড়ি কোনোমতে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিচ্ছিন্ন আছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়কও। এখন এলাকার একমাত্র বাহন নৌকা বা ট্রলার। ভাঙন ঝুঁকিতেও রয়েছে একাধিক ভবন।
এদিকে চরাঞ্চলের ৫ ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে বাড়ি ঘরেও। শিবচরের চরাঞ্চলের প্রায় সবাই কৃষি নির্ভর ও দিনমজুর হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের ঘোষিত আশ্রয়কেন্দ্র চরাঞ্চলের ৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উঠেছে এসব মানুষ।
নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় সংসদ সদস্য চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ত্রাণ তৎপরতাও শুরু হয়েছে দুর্গত এলাকায়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছেন।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নসহ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বন্যা কবলিতদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। আট হাজার পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কাজ শুরু হয়েছে। একযোগে সকল ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।
