জাহিদ হাসান ভূইয়া
শিক্ষানবিস রিপোর্টার ॥
একমাস আগে মাদকসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন কয়েক মাদক ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতারের পেছনে পুলিশের সোর্স সাগর (১৮) এর হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করেন। তাই জেলখানায় বসেই পরিকল্পনা করেন সোর্স সাগরকে হত্যার করার।
পরিকল্পনামাফিক জামিনে মুক্তি পেয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলেন সাগরের সাথে। গত ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় সাগরকে সাথে নিয়ে চোলাই মদ পান করেন ওই মাদক ব্যবসায়ীরা। ওইদিনই ইয়াবা ট্যাবলেট দেয়ার কথা বলে ন্যাশনাল পার্কের গহীন বনে নিয়ে যায় সাগরকে। ওই বনে আগে থেকেই উৎপেতে ছিলেন মাদকসেবীদের সহযোগীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছা মাত্রই সাগরকে চাকু, লাঠি-সোটা নিয়ে আঘাত করতে থাকে তারা। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ কাঁধে নিয়ে নান্দুয়াইন চাতুরাপাড়ার নাফিজ গার্ডেনের পাশের ধানক্ষেতে ফেলে দেয়া হয় এবং লাশ ফেলে চলে যাওয়ার আগে এসিড দিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেয়া হয়, যাতে কেউ চিনতে না পারে।
ঘটনার পর গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কের নান্দুয়াইন এলাকার ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত হিসেবে সাগরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার হয়। পরে স্বজনরা পরনে থাকা পোশাক দেখে লাশটি সাগরের বলে শনাক্ত করে।
ক্লুলেস এ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-১ এর সদস্যরা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানা এরিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত থাকায় চার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তারা এবং হত্যার রহস্য প্রকাশ করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাজীপুর মহানগরীর বাহাদুরপুর এলাকার লিটন (২৩), শরীফুল ইসলাম (৩৮) ও আরমান (১৯) ও ভাওরাইদ দক্ষিণপাড়ার শাহীন (২২)।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-১ এর গাজীপুর ক্যাম্প কমান্ডার লে. কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় বাহাদুরপুরের বিল্লাল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া সাগর। ১৯ অক্টোবর দুপুরে নান্দুয়াইন এলাকা থেকে সাগরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
