Skip to content

নববর্ষ উদযাপনে গিয়ে প্রাণ গেল তিন বোনের

বিল্লাল হোসেন
নরসিংদী প্রতিনিধি ॥
ইংরেজি নববর্ষ পালন করতে গিয়ে নরসিংদীতে প্রাইভেকার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় একই পরিবারের তিন বোনসহ ৪ জন। নিহত তিন বোন হলেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের চলনা গ্রামের মৃত আশাদুজ্জামান বেনু মিয়ার বড় কন্যা খাইরুন নাহার (৩০), মেঝ কন্যা কামনা আক্তার (২৫) ও ছোট কন্যা জামিয়া আক্তার তিশা (১৮)।

আজ শুক্রবার বিকেলে খালাতো বোনকে নিয়ে প্রাইভেটকারে করে ভৈরব থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর বেলাব জাঙ্গুয়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সাথে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় চালকসহ মারা যায় ওই তিন বোন। এছাড়া গুরুতর আহত হয় খালাতো বোন রুনা আক্তার।

এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত তিন বোনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। দুর্ঘটনার খবর শুনার পর থেকে নিহতের পরিবারদের সমবেদনা জানাতে ছুটে আসে আত্মীয় স্বজনরা। আজ শনিবার সকালে পলাশের চলনা গ্রামে তিন বোনের মরদেহ পৌছালে সৃষ্টি হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো গ্রাম। দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী ছুটে এসে নিহত পরিবারকে সমবেদনা জানায়। পরিবারের তিন মেয়েকে হারিয়ে শোকে পাগল প্রায় হয়ে গেছে মা হোসনে আরা।
চরসিন্দুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন সরকার জানান, দুর্ঘটনার দিন সকালে তিন বোন তাদের খালতো বোনকে নিয়ে প্রাইভেটকার করে ভৈরবে ঘুরতে যায়। সেখানে সারাদিন ঘুরে বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার পর তাদের মরহেদ ভৈরবের একটি হাসপাতালে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে মরহেদ গুলো গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহতদের দাফন করা হয়।

এদিকে নিহত তিন মেয়ের স্বজনরা জানান, তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে রেখে মারা যান পিতা আশাদুজ্জামান বেনু মিয়া। এরপর পরিবারের হাল ধরেন বড় পুত্র আপেল। তিনিও কাজ করতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান। ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে অনাহারে অর্ধাহার দিন পার করতে থাকে পরিবারটি। কোন উপায় না পেয়ে ব্র্যাকের স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ শুরু করেন মা হোসনেয়ারা বেগম। এভাবে হোসনেয়ারা দুর্বল হয়ে পড়লে মায়ের স্থলাভিত্তিক হয় বড় মেয়ে খায়রুন। প্রায় দুবছর কাজ করলে কিছু স্বচ্ছলতা আসে পরিবারে। সর্বশেষ তিন-চার মাস আগে স্বাস্থ্যসেবী হিসেবে কাজ শুরু করে খায়রুন। যার বেতন এখনো পায়নি। অভাব-অনটনের সংসারে একমাত্র উপার্জনের হাতিয়ার ছিল বড় বোন খাইরুন নাহার। তিনি লেখাপড়া শেষ করে একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবীর কাজ করতেন। মেঝ মেয়ে কামনাও সবে মাত্র লেখাপড়া শেষ করে একটি চাকরি করার চেষ্টা করছিল। সবার ছোট মেয়ে জামিয়া বেগম তৃশা অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। প্রতিবন্ধী একটি ভাই ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ভালোই চলছি তাদের সংসার। এখন তাদের আয়ের আর কেউ রইলনা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫