রায়হান পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু স্মারক সম্মাননা’ পেলেন লালমনিরহাটের সিনিয়র সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম। গত শনিবার, ২৬ মার্চ সন্ধায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে এই সিনিয়র সাংবাদিককে স্বারক সম্মাননা ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর।
‘৭৫ পরবর্তী বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না হলে আত্মহত্যা করবে। এমন ঘোষনায় তাঁকে নেয়া হয় সেফকাস্টুডিতে। থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন আ’লীগ নেতা, তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান,বর্তমান সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও অন্যান্ন নেতৃবৃন্দ।
তারপরও তিনি থেমে থাকেননি। প্রতিজ্ঞা করেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না হওয়া এবং খুনিদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমিষ (মাছ,মাংস,ডিম ইত্যাদি খাননি এক দশক। ডিমের তৈরি যে কোন খাবার খাননি তিনি।
আমিষ খাওয়া ছাড়ায় তিনি নানা শারীরিক সমস্যায় পড়েন, কিন্তু ‘ওয়াদা’ থেকে পিছপা হননি। ঈদে বাড়িতে কোরবানি পর্যন্ত হয়নি। বাবা আমিষ খান না বলে তাঁর মেয়েও আমিষ খাওয়া ছাড়েন। মেয়ের সাথে স্কুলের বান্ধবীরাও নিরামিষ খাওয়া শুরু করেন। যে কারনে তাঁকে পড়তে হয় সামাজিক প্রতিবন্ধকতায়। এক দশক পর ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর হওয়ার পর এলাকার লোকজন আনুষ্ঠানিকভাবে আবদুল আলিমকে আমিষে ফিরিয়ে আনেন। বিষয়টি নিয়ে ২০১০ সালের ২৯ জানুয়ারি ‘এবার আমিষ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ সহ বিভিন্ন পত্রিকায়।
আপাদমস্তক বঙ্গবন্ধুর ভক্ত শেখ আবদুল আলিমের (৬৯) বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুরে। চার সন্তানের জনক আলিম মুক্তিযুদ্ধের সময় জড়ান সাংবাদিকতায়। রংপুরের প্রবীণ সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বাটুলের সম্পাদনায় ভারতের দিনহাটা থেকে প্রকাশিত রণাঙ্গন পত্রিকা দেশে এনে গোপনে বিতরণ করতেন। কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজ এলাকায় চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।
কর্মের মাঝে বেঁচে থাকা নিঃলোভ এই মানুষটি এখন বৃদ্ধ বয়সে তাঁর শরীরে নানা রোগ ভর করেছে। এর পরও বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেন। কালীগঞ্জ(লালমনিরহাট)প্রতিনিধি হিসাবে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় আছেন দীর্ঘদিন থেকে। সময় পেলেই কাজের ফাঁকে ফাঁকে স্কুলে স্কুলে গিয়ে শিশুদের শোনান বঙ্গবন্ধুর কীর্তির কথা।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধ স্মারক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে ১১ বছর শেখ আব্দুল আলিম নিরামিষ খেয়েছেন। এটি যেন তেন কোন ব্যাপার নয়। একটি বিরল দৃষ্টান্ত। তাঁর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা। নতুন প্রজন্মকে এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায়, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন বাদল, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ্ উদ্দিন আহমেদ, বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন অবঃ আজিজুল হক, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক ফেরদৌসী বেগম বিউটিসহ প্রমূখ।
