Skip to content

কাপাসিয়ায় খালে মাটি ফেলে ভরাট করায় উজানে বন্যা

বিশেষ প্রতিবেদক
গাজীপুর: খালের জমি কিনে বাউন্ডারী ওয়াল দিয়ে মাটি ভরাট করায় স্থানীয় পর্যায়ে উজানে বন্যা দেখা দিয়েছে।
যুগের পর যুগ কাপাসিয়ার উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের একডালা, ঘিঘাট ও নাশেরা গ্রামের বর্ষার পানি এ গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া খাল দিয়ে পাশবর্তী শীতলক্ষ্যা নদীতে নামছে। গত বর্ষা থেকে এ খালের পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ। এতে করে ওই তিনটি গ্রামের কৃষি জমিতে অস্বাভাবিক পানি আটকে কৃক্রিম বন্যায় ফসলের ক্ষতি সাধন হচ্ছে। ইতিপূবে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন সমাধান পায়নি এলাকাবাসী। এবারও চলতি বছরের ৮ জুন গাজীপুর জেলা প্রশাসক এবং ১২ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পৃথকভাবে স্থানীয় ৩৮ কৃষকের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি অভিযোগ দাখিল করেন নাশেরা গ্রামের মৃত সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমেদের পুত্র সাবেক সেনা সদস্য সৈয়দ তাজভীর আহমেদ (পুলক)।

জানা যায়, নাশেরা গ্রামের বোরহান উদ্দিনের পুত্র নাশেরা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভার্নিং বডির সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ কামরুজ্জামান সোহেল স্থানীয় এক কৃষকের কাছ থেকে সাড়ে আট কাঠা জমি ক্রয় করেন। জমিটি নাশেরা বায়তুল মনোয়ারা জামে মসজিদ সংলগ্ন খালের উপর কালভার্ট ঘেষা দক্ষিণ অংশে। জমি ক্রয় করার পর গত বছরের জানুয়ারী, ফেব্রæয়ারীতে ভাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে মাটি ভরাট করে পেপে এবং কলা বাগান তৈরি করেন। এতে করে কালভার্টের মূখটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি নদীতে নামতে পারছে না। স্থানীয় এলাকাবাসী মাটি ভরাটের সময় বাধা দিলেও ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তার করেন মোঃ কামরুজ্জামান সোহেল।

এ বিষয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় একডালা গ্রামের মোঃ শামীম সারোয়ার বলেন, খাল ভরাট করায় গত বছর বর্ষার পানি জমে আমার কলা বাগান নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়াও এলাকায় বহু গরু ফার্মের জন্য জমিতে চাষ করা ঘাসসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হচ্ছে।

একডালা গ্রামের সার ব্যবসায়ী মোঃ ইকরামুল কবির খান (সাব্বির), ঘিঘাট গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, একজন ব্যবসায়ী জমিটি এতিমখানা মাদ্রাসার নির্মাণ করার জন্য ক্রয় করেন। কালভার্টের মূখ মাটি দিয়ে ভরাট করায় স্থানীয় কৃষদের বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। তবে খালে পানি প্রবাহের সুস্থ ব্যবস্থা থাকা দরকার।

ব্যবসায়ী মোঃ কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, আমি একটি এতিমখানা মাদরাসা করার জন্য সাড়ে আট কাঠা জমি ক্রয় করি। পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ১০ ফিট বাই ৩৫ ফিট লম্বা পাকা ড্রেন করে দিয়েছি। বাকী জায়গায় আমি বাউন্ডারি ওয়াল করেছি।

কাপাসিয়া উপজেলার রাণীগঞ্জ ভ‚মি অফিসের সহকারী ভ‚মি কর্মকর্তা মোঃ আঃ হাই সিকদার বলেন, অবৈধভাবে খাল বরাট ও অপদখলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাপাসিয়া সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) আমাকে তদন্তের নির্দেশ দিলে আমি সরজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতার মিল খুঁজে পাই। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বর্ষাকাল থাকার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পানি জমে ফসলি জমির মারাত্মক ভাবে ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) রুবাইয়া ইয়াসমিন বলেন, এ বিষয়ে এখন আমি মনে করতে পারছি না। তবে আগামী রবিবার ফাইল দেখে বলতে পারবো।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোর্শেদ খান পাভেল বলেন, এ ব্যাপারে আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে পাঠাবো। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হলে আমি ব্যবস্থা নিব।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫